খবর লাইভ:আমেরিকার বিভিন্ন শহরে গত শনিবার ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের নানান নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ জনতা রাস্তায় নেমেছেন।
শহরগুলোতে যেমন ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, বস্টন, লস অ্যাঞ্জেলেস , প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে, যেখানে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তারা স্লোগান দিয়েছেন, «আমেরিকায় কোনও রাজা নেই।
প্রধান কারণগুলো:
• ট্রাম্পের অভিবাসী নীতিতে ক্রমাগত কঠোরতা এসেছে, যেমন এইচ‑১বি ভিসা ও অভিবাসন আইন‑নীতিতে রদবদল।
• আমেরিকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তন এসেছে; শুল্ক বৃদ্ধি ও বিদেশি সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নাজুক হওয়া‑এর পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে।
• দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সেবা বন্ধ (শাটডাউন) থাকায় অর্থাভাবে অনেক কর্মচারী বেতনবিহীন কাজ করছেন, গবেষণা ও শিক্ষা খাতে সংকট দেখা দিয়েছে, যা জনবিচলনার কারণ হয়ে উঠেছে।
• একাধিক নাগরিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মনে করছেন, এই পর্যায়ে প্রেসিডেন্টের আচরণ ও নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সেখানে গণতন্ত্রের মৌলিক ধারণা সংকুচিত হতে পারে।
•
উদ্বেগের জায়গা:
বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল সবচেয়ে বড় একটি নাগরিক সংগঠন No Kings — তাদের বক্তব্য ছিল, “প্রেসিডেন্ট মনে করছেন তাঁরই রাজত্ব সর্বস্ব। কিন্তু আমেরিকায় কোনো রাজা নেই। আমরা বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও নিষ্ঠুরতা সহ্য করব না।”
এক অভ্যস্ত সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আমার মনে হয়, ট্রাম্প আমাদের সরকার ও গণতন্ত্রকে দখল করে নিচ্ছেন, ধীরে ধীরে ও নিশ্চিতভাবে ভেঙে ফেলছেন।”
এই হিসেবে, সাধারণ মানুষ এমন সময় রাস্তায় এসেছে যখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উলটপুরানি স্পষ্টভাবে বাড়ছে। আন্দোলনের বিস্তার ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা এই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শরীরভূত প্রতিবাদের মাত্রা শুধু এক‑দুটি শহরে সীমাবদ্ধ নেই — এটি একটি গণতান্ত্রিক উত্তেজনার অংশ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প যে ভাবে সরকার চালাচ্ছেন, তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই বিক্ষোভ। ‘নো কিংস’ কর্মসূচির ওয়েবসাইটে লেখা রয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) ভাবেন তাঁর রাজত্বই সর্বশ্রেষ্ঠ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমেরিকায় কোনও রাজা নেই। আর আমরা কোনও বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং নিষ্ঠুরতা সহ্য করব না’।
আমেরিকায় মোট ২৭০০টি বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। দাবি, প্রতিটিই অপ্রত্যাশিত ভাবে সফল হয়েছে। মানুষ ট্রাম্প-বিরোধী প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন। সেখানে আট থেকে আশি, বাদ নেই কেউ।




