International Special News Special Reports

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অ্যাশলে টেলিস গ্রেফতার, গুরুত্বপূর্ণ নথি পাচার ও চিনা সংযোগের অভিযোগ

0
(0)

খবর লাইভ : ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিদেশনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশ্লেষক অ্যাশলে জে. টেলিস কে মার্কিন ফেডারেল সরকার গোপন নথি অবৈধভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।

জানা গিয়েছে, টেলিসের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠা সংবেদনশীল তথ্যপূর্ণ নথি, যেগুলোর অধিকাংশে টপ সিক্রেট হিসেবে স্বীকৃত ও চিহ্নিত ছিল।

আইনি তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে টেলিস মার্কিন প্রতিরক্ষা ও স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভবনে গোপন নথি প্রিন্ট করতেন এবং তা একটি চামড়ার ব্রিফকেসে বহন করে বাড়িতে নিয়ে যেতেন।

এরই পাশাপাশি, টেলিসের বিরুদ্ধে চিনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করার সন্দেহও উত্থাপিত হয়েছে। একটি নৈশভোজে দেখা গেছে, তিনি একটি ম্যানিলা এভেলপ নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন যা তার ফিরে যাবার সময় সঙ্গে ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার দফতর জানিয়েছে, যদি টেলিসকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তাহলে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২লাখ ৫০ হাজার ডলারের জরিমানা হতে পারে।

টেলিস কোন ভূমিকা পালন করেছিলেন?

অ্যাশলে টেলিস দীর্ঘদিন ধরেই ভারত–মার্কিন সম্পর্ক, দক্ষিণ এশিয়া নীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি সংক্রান্ত একটি প্রভাবশালী মানুষ ছিলেন। তিনি জর্জ ডব্লিউ. বুশ প্রশাসনের সময় ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি কার্নেগি এন্ডাউনমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসে সিনিয়র ফেলো এবং স্ট্র্যাটেজিক বিষয়ক টাটা চেয়ার হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর ওপর এসব অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ও সংবাদ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

প্রসঙ্গত, মুম্বইয়ে জন্ম। পড়াশোনা সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ এবং পিএইচডি করেন টেলিস। ২০০১ সালে যোগ দেন মার্কিন সরকারে। দক্ষিণ এশীয় নিরাপত্তা এবং মার্কিন-ভারত পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অন্যতম শীর্ষ বিশেষজ্ঞ হিসাবে বিবেচনা করা হত টেলিসকেই।

দক্ষিণ এশীয় নিরাপত্তা এবং মার্কিন-ভারত পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অন্যতম শীর্ষ বিশেষজ্ঞ হিসাবে বিবেচনা করা হয় টেলিসকেই। অতীতে মার্কিন সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেটের সিনিয়র রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জেডব্লিউ বুশের বিশেষ সহকারী হিসাবে কাজ করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে। আমেরিকা-ভারত অসামরিক পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন টেলিস।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *