খবর লাইভ : এবার নেপালের ঢেউ আছড়ে পড়ল আফ্রিকায়। জেন জেড যে একটি দেশের সরকার বদলে দিতে পারে তা প্রথম শুরু হয়েছিল নেপালে। সেরকমই জেন জেডের বিক্ষোভের মুখে পড়ে সোমবার দেশ ছেড়ে পালাল পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রে রাজোয়েলিনা।
যদিও বিক্ষোভের আঁচ কমাতে দিন দশেক আগে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী-সহ গোটা মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেও তাঁর গদি বাঁচাতে পারলেন না অ্যান্ড্রে রাজোয়েলিনা।
মাদাগাস্কারের বিরোধী নেতা সিতেনি র্যান্ড্রিয়ানা সোলোনিয়াইকো জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার খবরটি আমরা প্রেসিডেন্টের দপ্তরের কর্মীদের থেকে জেনে নিশ্চিত হয়েছি।
ফ্রান্সের একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সে দেশের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অ্যান্ড্রেকে ফরাসি সামরিক বিমানে মাদাগাস্কার থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কিন্তু মাদাগাস্কারে কেন এই বিক্ষোভ?
জানা গিয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ এবং পানীয় জলের সঙ্কটে ক্ষুব্ধ মাদাগাস্কারের রাজধানী আন্তানানারিভোর বাসিন্দাদের একাংশ রাস্তায় নেমেছিলেন। ধীরে ধীরে তা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ওই আন্দোলনের সামনের সারিতে চলে আসে জেন জি।
১ অক্টোবর মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট এনৎসে সরকারকে বরখাস্ত করে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভের আঁচ স্তিমিত হয়নি। এমনকী সেনাবাহিনীর একাংশও প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করেছিল।অ্যান্ড্রের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান এনৎসে এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ ধনকুবের মায়মি রাভাতোমাঙ্গার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জনতা।
মাদাগাস্কারের বিরোধী নেতা সিতেনি র্যান্ড্রিয়ানা সোলোনিয়াইকো সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, সোমবার গোপনে দেশত্যাগ করেছেন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রে। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্টের দপ্তরের কর্মীরা নাকি প্রেসিডেন্টের দেশ ছেড়ে পালানোর খবর নিশ্চিত করেছেন। শোনা যাচ্ছে, মাদাগাস্কারের সঙ্গে ফ্রান্সের সমঝোতার কারণে ফরাসি সামরিক বিমানে অ্যান্ড্রেকে দেশ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জেন জেড বিক্ষোভ দমাতে মাদাগাস্কারের প্রধানমন্ত্রী সহ গোটা মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। বিক্ষোভ দমেনি! তাই এবার দেশ ছাড়লেন তিনি।




