খবর লাইভ : মঙ্গলবার সকালেই খগেন মর্মুর স্ত্রী মঞ্জু মর্মু এবং তাঁর সন্তানের সঙ্গে দীর্ঘ ক্ষণ কথা হয় পিএমওর আধিকারিকদের। ঘটনাচক্রে, মঙ্গলবার দুপুরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আহত সাংসদকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর দেখতে যাওয়ার পরে রাজ্যের বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী খগেনকে দেখতে যান হাসপাতালে। কিন্তু দলীয় নেতার আগে তৃণমূলনেত্রী খগেনকে দেখতে যাওয়ায় কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয় দলের অভ্যন্তরে। কিন্তু তার পরেই জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রী দুপুরে যাওয়ার আগেই সকালে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে ফোনে খগেনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়। এতে দলের সেই অস্বস্তি কেটে যায়। তবে গুরুতর আহত খগেনের সঙ্গে পিএমওর আধিকারিকেরা কথা বলতে পারেননি। তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ২৪০ জন বিজেপি সাংসদ-সহ এনডিএ শরিকদের নিয়ে তৃতীয় বারের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোদি। দলের প্রত্যেক সাংসদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দফতরের যে বিশেষ নজর রয়েছে তা বারে বারেই দেখা গিয়েছে।
তবে খগেনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন বলেই মনে করছেন রাজ্য বিজেপির একাংশ। উত্তরবঙ্গে দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ত্রাণ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন মালদহ উত্তররের সাংসদ খগেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের আদিবাসী সাংসদের রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনায় দায়ী করেছেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে।
নিজের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে মোদি লেখেন, ‘যে ভাবে আমাদের দলের সহকর্মীরা— যাঁদের মধ্যে একজন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়কও রয়েছেন— পশ্চিমবঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অসংবেদনশীলতা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার করুণ রূপের স্পষ্ট প্রতিফলন।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমার একান্ত কামনা, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস এই কঠিন পরিস্থিতিতে হিংসায় লিপ্ত না হয়ে মানুষের সাহায্যে আরও মনোযোগী হোক। আমি বিজেপি কার্যকর্তাদের আহ্বান জানাই, তাঁরা যেন জনগণের পাশে থেকে চলতি উদ্ধারকাজে সহায়তা করে যান।’




