খবর লাইভ : নয়াদিল্লি ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী বহুদলীয় জোট গঠন করার পথে। জোটে সামরিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ভিত্তিতে জড়াচ্ছে গ্রীস, সাইপ্রাস, আর্মেনিয়া ও ইজরায়েলকে। অর্থাৎ, “চার বন্ধু”কে হাত ধরে ভারত সম্ভাব্যভাবে তুরস্ক, আযারবাইজান ও পাকিস্তানের অক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতকে ঘিরে তুরস্ক–আযারবাইজান–পাকিস্তান অক্ষ ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত সঙ্কট থেকেই এই অক্ষ আরও ঘন হয়।
এই অবস্থায় ভারত প্রতিক্রিয়াতে চার দেশে হাত বাড়াচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, ওই দেশগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে যদি তা সামরিক সহযোগিতায় পৌঁছায়, তাহলে অক্ষশক্তিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
একদিকে, ভারত ইতিমধ্যে সাইপ্রাসের লিমাসোল বন্দরে তার ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ আইএনএস ত্রিকাণ্ড পাঠিয়েছে। এই যুদ্ধজাহাজটি ভূমধ্যসাগরের অঞ্চলে মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, গ্রীস ও ভারত দ incluyen প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা শুরু করেছে — যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তুর্কি সংবাদমাধ্যমগুলিতে দাবি করা হচ্ছে, ভারত লং-রেঞ্জ ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল গ্রীসকে সরবরাহ করতে পারে।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, ভারত ইতিমধ্যে আর্মেনিয়ার প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তারা ভারত থেকে ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী রকেট, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হাওৎজার কামান ও ড্রোন প্রতিরোধক প্রযুক্তি ক্রয় করেছে।
এই নয়া জোট গঠনের উদ্যোগকে তুরস্ক “চ্যালেঞ্জস্বরূপ” দেখছে। বিশেষ করে সাইপ্রাসকে ঘিরে তুরস্কের আগ্রাসন, এজিয়ান সাগরের সীমান্ত বিবাদ ও দক্ষিণ এশিয়ার গঠনমূলক কূটনৈতিক পালাবদলের পরিপ্রেক্ষিতে আঙ্কারা সংবেদনশীল অবস্থানে রয়েছে।
পরবর্তী দিকে, রিয়াধের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক চুক্তি, একটি সম্ভাব্য ‘ইসলামী নেটো’ গঠনের চেষ্টা এবং ভারত ও ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা — এই সবকিছু মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক মানচিত্র দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।




