খবর লাইভ : সিনিয়র সাংবাদিকের উপর হামলা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পরিবারের সবার নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই সিনিয়র সাংবাদিকের জায়গা জোর করে দখল করার চেষ্টা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এই অভিযোগের তীর হুগলি জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে।
খবর লাইভের সম্পাদক পীযূষ চক্রবর্তীর বাড়ির ভিটের উপর দিয়ে জোর করে রাস্তা করার অভিযোগ উঠল রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে। বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে খবর করায় দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের কুনজরে ছিলেন পীযূষ। অতীতেও তাঁর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া থেকে শুরু করে তাঁদের জায়গা দখল করার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল ও তৃণমূল পরিচালিত হুগলির জাঙ্গিপাড়া বিধানসভার অন্তর্গত রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ ২০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তারা নিউজ, কলকাতা টিভি, এবিপি গোষ্ঠী সহ বিভিন্ন হাউসে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন পীযূষ। বাম আমলেও প্রতিবাদী চরিত্র হিসেবে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার খবর করে গিয়েছেন। দু-একবার ছোটখাটো সমস্যার মধ্যে পড়েছেন ঠিকই কিন্তু তৃণমূল আমলের মতো বারংবার আক্রান্ত হননি তিনি বা তাঁর পরিবার।
একসময় হুগলি জেলা যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা তৃণমূলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন। চাকরির কারণে তিনি রাজনীতি ত্যাগ করলেও পরে অবশ্য কোনও দলকেই আর সমর্থন করেননি। সেই পীযূষের উপরেই বারবার আক্রমণের খাড়া নেমে এসেছে শাসকদলের দ্বারা।
প্রসঙ্গত, খবর লাইভের সম্পাদকের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাড়ির ভিটের উপর দিয়েই একটি বেরোনোর রাস্তা ছিল। যেটি দলিল বা ম্যাপে অবশ্য রাস্তা বলে উল্লেখ নেই। কিন্তু হুগলি জেলা পরিষদ যে পর্যন্ত রাস্তা বলে উল্লেখ আছে তার বাইরেও ১০ ফুট চওড়া করতে চাইছিল। পীযূষের পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ, হুগলির জেলাশাসক, শ্রীরামপুরের মহকুমা শাসক, জাঙ্গিপাড়ার বিডিও ও রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে ১০ ফুট চওড়ার বিষয় নিয়ে আপত্তি রয়েছে বলে জানান। তিনি চেয়েছিলেন, তাঁদের দেড়শো মিটার জায়গা সাত ফুট চওড়া করা হোক।
বেশ কিছুদিন সেই কাজ বন্ধ থাকলেও মঙ্গলবার সকালে হঠাৎই ঠিকাদার সংস্থা প্রথমে জানাই তারা ৭ ফুট চওড়া রাস্তাটি করবে। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাশের গ্রামের দু একজন তৃণমূল কর্মীকে নিয়ে পরিবারের লোকেদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে স্থানীয় দু একজন তৃণমূল কর্মী। দীপু বাগ, মানিক মুখোপাধ্যায়, অলোক মুখোপাধ্যায়রা জোর করে ঠিকাদার সংস্থাকে দশ ফুট চওড়া রাস্তা করতে বাধ্য করেন।
বিষয়টি জেলা পরিষদের সভাধিপতি, জাঙ্গিপাড়ার বিডিও, শ্রীরামপুরের এসডিও, জাঙ্গিপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে জানানো হয়। তাঁরা কেউই কোনও হস্তক্ষেপ করেননি। এরাজ্যের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পীযূষ। খবর লাইভের সম্পাদক বলেন, ‘আমরা কোন রাজ্যে বাস করছি। যেখানে সাংবাদিকদের ওপর এতটা জুলুমবাজি হচ্ছে। মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী কাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন এখানে! যাঁরা একসময় ঠিকাদারি করতেন বা এখনও করেন তাঁরাই যদি যুব তৃণমূলের কেউ অঞ্চল সভাপতি হন বা কেউ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হন তাহলে তো এরকম ভয়ংকর পরিস্থিতি হবেই। গত আট বছরে রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রাস্তাঘাট, শৌচাগার নির্মাণ, ড্রেন নির্মাণ ও সরকারি ঘর তৈরীর প্রকল্পে কী ভয়ঙ্কর যে দুর্নীতি হয়েছে তা তদন্ত করলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।’




