Special News Special Reports State

তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তলানিতে, মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে ফের প্রকাশ্যে ক্ষোভ কল্যাণের 

0
(0)

খবর লাইভ : দক্ষিণ কলকাতার কসবা আইন কলেজে একটি ছাত্রী ধর্ষণ কাণ্ড ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী মতৈক্যে বড় ফাটল ধরল। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র যখন যৌন বৈষম্য প্রচলনের অভিযোগ তুলে তাঁর সহকর্মী শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটূ মন্তব্যের ধিক্কার জানান, তার পরেই তাঁকে উদ্দেশ্য করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও কটূ মন্তব্য করেন।

মহুয়া পার্টির বক্তব্য শেয়ার করে টুইট করেছিলেন, যা স্বাভাবিকভাবেই দলকে বিতর্কিত পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেয়। তবে কল্যাণ মহুয়ার যুক্তির সুরে সুর মেলাননি। তিনি ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ শুরু করেন। বলেন, মহুয়া ৪০ বছরের পুরনো একটি পরিবার ভেঙে বিদেশ থেকে একনিষ্ঠভাবে ফিরে এসে হানিমুন করেছেন এবং তারপরই তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে বানিজ্যিক উদ্দেশ্য ও সুবিধাভোগীর অভিযোগ তোলেন ।

এই ঘটনায় দলের তরফ থেকে বিধায়ক মদন মিত্রকে শোকজ করা হয় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নিন্দা সূচক প্রতিক্রিয়া দেয় দলীয় নেতৃত্ব। দল স্পষ্ট জানায়, যে কোনও অনুচিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে ।

এভাবে তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ সংঘাত আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নারীর নিরাপত্তা ও রাজনীতি নিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে আবারও দ্বন্দ্বের আবহ। মাস কয়েক আগেই নির্বাচন কমিশনের অফিসে প্রকাশ্যে কলহে জড়িয়েছিলেন তৃণমূলের দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বিবাদের রেশ এখনও কাটেনি বরং এবার বাদল অধিবেশনে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয় ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে লোকসভার আলোচনা।

সূত্র অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুর বিষয়ে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে আগ্রহী ছিলেন মহুয়া মৈত্র। কিন্তু কে বলবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ উঠেছে, তিনি মহুয়াকে সেই সুযোগ দেননি। পরিবর্তে তিনি নিজে ও তৃণমূলের যুব নেত্রী সায়নী ঘোষ সংসদে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের ভিতর ফের অসন্তোষ তৈরি হয়। একইসঙ্গে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের দায়িত্ব থেকে কল্যাণকে সরিয়ে দেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসদীয় বৈঠক শেষে চিফ হুইপের পদ থেকেও ইস্তফা দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কল্যাণ বলেন, দলকে জানিয়েছি। যা করার করবে। আমি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি। আমি আমার ডিগনিটি নষ্ট করতে পারব না। আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে যদি বাকি সাংসদরা খুশি হয়, তাহলে হবে। আমি সবাইকে জানিয়েছি, দলনেত্রীকেও জানিয়েছি। কোনও ফল হচ্ছে না। কল্যাণ আরও বলেন,  ইংরেজি বলা সুন্দরী মহিলার যদি দলে দাম থাকে, তাহলে থাকবে। একজন এমপি-কে গালাগাল দিচ্ছে, বোঝাই যাচ্ছে কী কালচার। ভাল ভাল শাড়ি পরলেই তো আর বড় কেউ হওয়া যায় না।

আসলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অসুস্থ থাকাকালীন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই দায়িত্ব থেকেও এদিন তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মমতার নির্দেশে, এবার থেকে দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রতিদিনের কার্যকলাপের সমন্বয় করবেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *