খবর লাইভ : ভয়াবহ নৃশংসতা। প্রথমে স্ত্রী এবং তারপর নিজের কন্যাকে শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে রীতিমতো খুন। এরপর গলায় দড়ি দিয়ে নিজে আত্মঘাতী হলেন এক প্রৌঢ়। বুধবার গভীর রাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে চন্দননগরে।
আর এই ঘটনার সঙ্গেই এবার ট্যাংরা এবং হরিয়ানার পঞ্চকুলার ঘটনার মিল পাচ্ছেন অনেকেই। কারণ, একাধিক স্থানীয় মানুষজনের দাবি, বাজারে লক্ষ লক্ষ টাকার দেনা ছিল ওই পরিবারের। আর ঠিক সেই কারণেই, মানসিক অবসাদ থেকে ওই প্রৌঢ় একসঙ্গে নিজের স্ত্রী এবং কন্যাকে খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অনুমান করছেন অনেকেই। যদিও পুরো বিষয়টি নিয়েই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বুধবার, গভীর রাতে চন্দননগরের কলুপুকুর গড়ের ধার এলাকার একটি বাড়িতে একই পরিবারের তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। খবর যায় চন্দননগর থানায়। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে এই খবর পেয়েই, ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। তারপর ঘরের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয় ৬১ বছরের বাবলু ঘোষ, তাঁর স্ত্রী প্রতিমা ঘোষ, যার বয়স ৪৬ বছর এবং ১৩ বছরের কন্যা পৌষালি ঘোষের দেহ। রাত ২টো নাগাদ ময়নাতদন্তের জন্য দেহগুলিকে চন্দননগর হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, বাবলু আগে একটি টিনের বাক্স তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। এরপর কিছুদিন টোটোও চালিয়েছেন। কিন্তু পরে তাঁর নিজের সেই টোটোটি ভাইকে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে বাড়িতেই একটি দোকান চালাতেন তিনি। তবে খানে সাট্টার প্যাড লিখতেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকেই।
সেইসব নিয়ে প্রায়শই চিন্তার কথা বলতেন অনেককে। স্থানীয় একজন জানিয়েছেন, “এমনিতে ওরা খুব ভালো ছিল। প্রায়ই ধারদেনা নিয়ে চিন্তা করত।আমি বলতাম সব ঠিক হয়ে যাবে, চিন্তা করিস না। কিন্তু এমন একটা কাজ যে করে ফেলবে, সেটা বুঝতে পারিনি।”
আরেকজনের কথায়, “বুধবার, বাবলু এবং ওর স্ত্রীকে ফোনে পাচ্ছিলাম না। সুইচড অফ বলছিল বারবার। সাড়াশব্দ না পেয়ে পাড়ার ছেলেরা কাচ ভেঙে দেখে, তিনজন পুরো অচৈতন্য অবস্থায় ঘরে পড়ে আছে। তারপরই খবর দেওয়া হয় পুলিশে।”
এদিকে সকালে বাবলুর বাড়িতে পৌঁছে যান চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, “গোটা ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ধারদেনা? না কি অন্য কোনও কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখার কাজ চলছে। আপাতত ঘটনাস্থল থেকে একটি শাবলকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে, দেনার দায়ে হরিয়ানার পঞ্চকুলায় পরিবারের সাত সদস্য একসঙ্গে বিষ খেয়েছিলেন। এরপর গাড়িতেই মৃত্যু হয় ৩ শিশুসহ মোট ৬ জনের। পরে আরও একজন মারা যান।
ঠিক গত ১২ ফেব্রুয়ারি, কলকাতার ট্যাংরায় একইরকমভাবে ঋণগ্রস্ত দে পরিবারের সকলে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয় তিন মহিলা সদস্যের। তবে প্রাণে বেঁচে যান সেই পরিবারের বাকি তিনজন সদস্য।




