খবর লাইভ : ছত্তীশগঢ়ের অবুঝমাঢ় বনাঞ্চলে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হলেন মাওবাদী সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-এর সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও, যিনি বাসবরাজ নামে পরিচিত। এই অভিযানে আরও ২৬ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন, ফলে মোট ২৭ জন নিহত হলেন। এটি ভারতের মাওবাদী বিরোধী অভিযানে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অপারেশনটি শুরু হয় ২১ মে ২০২৫, যখন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে যৌথবাহিনী অবুঝমাঢ় এলাকায় অভিযান শুরু করে। এই এলাকায় মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। গোপন সূত্রে জানা যায় যে, ওই এলাকায় এক শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার অবস্থান করছেন। পরে জানা যায়, তিনি হলেন বাসবরাজ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই অভিযানের সাফল্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দেশকে নকশালবাদ থেকে মুক্ত করতে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।” তিনি আরও বলেন, “আজ ছত্তীসগঢ়ের নারায়ণপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২৭ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সিপিআই-মাওবাদীর সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসভরাজু।”
এই অভিযানে সিআরপিএফের কোবরা ইউনিট, ছত্তীসগঢ়ের সশস্ত্র পুলিশ, ডিস্ট্রিক্ট রিজ়ার্ভ গার্ড বাহিনী, মহারাষ্ট্র পুলিশের সি-৬০ এবং তেলঙ্গানা পুলিশের মাওবাদী দমন বাহিনী অংশগ্রহণ করে। এই যৌথ বাহিনী মাওবাদীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা অভিযানে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাসবরাজ ছিলেন মাওবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতা এবং তার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। তিনি ২০১০ সালের দান্তেওয়াড়া হামলার মতো নৃশংস হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত। তার মৃত্যু মাওবাদী সংগঠনের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
এই অভিযানের মাধ্যমে ভারতের মাওবাদী বিরোধী অভিযান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং মাওবাদী সংগঠনটির শক্তি কমেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
এই সাফল্য ভারতের নিরাপত্তাবাহিনীর দক্ষতা এবং মাওবাদী বিরোধী অভিযানে তাদের প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।




