Special News Special Reports State

যাদের চাকরি চুরি গেল তারাই খেলো মার, রাজ্যে এখনই রাষ্ট্রপতি শাসন না হলে সাধারণ মানুষের বাঁচা মুশকিল

0
(0)

চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় : পশ্চিমবঙ্গের চাকরিহারা শিক্ষকরা এখন এক অদ্ভুত যাঁতাকলের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি পাওয়ার আশায় বসে থাকা হাজারো যুবক-যুবতী, যাদের জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল সরকারি চাকরি, এখন একে একে চাকরি হারানোর শিকার হচ্ছেন। কিন্তু, এই হতাশার মধ্যে একটি প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে, যারা চাকরি পেয়েছিলেন, তারা এর পরিণতি হিসেবে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে কেন পুলিশের হাতে মার খাচ্ছেন? রাজ্যে যেভাবে একের পর এক ঘটনা ঘটে গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ থেকে মালদা, আর জি কর থেকে ভাঙর। যে কোনও আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে প্রশাসকের চোখ রাঙানি আর পুলিশের মার কপালে জুটছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে এখনই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি না হলে সাধারণ মানুষের বাঁচা মুশকিল হয়ে যাবে।

চাকরিহারাদের এক বিরাট অংশের অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নামে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করার পর, একদিন চাকরি চলে গিয়েছে, এবং এর বদলে মিলেছে শুধু আশ্বাস। নির্বাচিত হয়ে গিয়েছি, অথচ কাজে যোগ দিতে পারিনি, এমন অভিযোগ করেছেন বহু শিক্ষক।

এদিকে, যাদের চাকরি ছিল, তাদের মধ্যে অনেকেই কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছেন। তারা দাবি করছেন, কিছু লোক তাদের অবস্থান এবং দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি বা চাকরি নিশ্চিত করেছেন। কর্মী আন্দোলনগুলোও এমন কিছু অভিযোগ তুলে ধরেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে কিছু শিক্ষক প্রভাবশালী হওয়ায় নিজের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন, আর অন্যরা চাকরি হারিয়েছেন।

স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে যোগ্য অযোগ্য নিয়ে নানান প্রশ্ন। অথচ, তাদের মধ্যে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, কেন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলো, যেখানে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেউ চাকরি পাননি। অনেকের মতে, এই বিষয়টি শুধু রাজ্যের নয়, পুরো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। কারণ, যারা চাকরি হারিয়েছেন বা সঠিকভাবে চাকরি পাননি, তাদের ভবিষ্যৎ প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড়িয়ে।

এই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গঠনমূলক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে,। যাতে চাকরি পাওয়ার আশা করেও চাকরি হারানো যুবক-যুবতীরা ভবিষ্যতে নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে কিছুটা হলেও স্থিতিশীল হতে পারেন। আর যারা চাকরি চুরি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

অবশ্য, রাজ্য সরকারের কাছে এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এখনই কিছু কার্যকরী পদক্ষেপের প্রয়োজন। তবে, যে কোনও পরিস্থিতিতেই, চাকরি হারানো কর্মীদের অবশ্যই সুবিচার পাওয়া উচিত। যারা শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলল,  তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কারণ এটাতো অস্বীকার করতে পারবেন না যে শিক্ষার আয়নায় সমাজকে চেনা যায় । আর সেই সমাজ গড়ে তোলার কারিগর যারা, তাদেরকেই আজকে কিছু অযোগ্যদের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে, মার খেতে হচ্ছে। যা সমাজের কাছে,  ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। অথচ রাজ্য সরকার পুরো বিষয়টা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে । তাই যদি কেউ বলেন, রাজা তোর কাপড় কোথায় ? তবে কি ভুল বলবেন?

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *