Special News Special Reports State

ফের বেছে বেছে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠল খানাকুলের গোলাম নবীর বিরুদ্ধে

0
(0)

খবর লাইভ : ফের বিতর্কে নাম জড়ালো খানাকুলের বালিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গোলাম নবীর। এবার তাঁর বিরুদ্ধে এলাকার হিন্দু ভোটারদের মারধর ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠল। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূল দলের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। নবীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চেয়ে ইতিমধ্যেই দলের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন স্থানীয় নেতৃত্বরা।
দীর্ঘদিন ধরেই বালিপুর এলাকার একাধিক ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নবী ও তার সঙ্গীদের। কখনও ব্যবসায়ীদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে আবার কখনও বিজেপি কর্মীদের মারধর করে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। দলেরও একটা বড় অংশ তাঁর হাত থেকে নিস্তার পায়নি। যা নিয়ে একাধিকবার নবীর বিরুদ্ধে দলীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগও জমা পড়েছে। তাতে অবশ্য তাঁর দাপট কমেনি। অনেকেই নবীকে সঙ্গে সন্দেশখালির শেখ শাহজাহানের সঙ্গে তুলনা করেন। কিন্তু কেন?
সম্প্রতি রামনবমীর দিন এক ফেরিওয়ালা ও এক ব্যবসায়ীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে নবী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। বেছে বেছে হিন্দুদেরকেই মারধর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন খোদ তৃণমূলেরই একটা বড় অংশ। এর ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনই ওই এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বালিপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নুরেল আলম মল্লিক বলেন, ‘হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। পাশাপাশি পঞ্চায়েতে নবী বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর কেউ গেলে বা সাধারণ মানুষ দরকারি কাজে গেলে তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। এ নিয়ে আমাদের কাছে একাধিকবার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের মধ্যে অনেক অনিয়ম হচ্ছে যেগুলো আমরা দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য দল যাতে নবীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেই আবেদন করেছি।’
বালিপুর এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। পঞ্চায়েতের মধ্যে অনেক সময়েই মদের আসর বসে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজন। উপপ্রধানের পাশাপাশি বালিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। এলাকার একাংশের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের প্রধান পিংকি ফৈদার কোনও কিছু না বলাতেই নবী সেখানে এতটা ‘দাদাগিরি’ করতে পারেন। নবীর সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক থাকাই প্রধান কোনও কিছু বলেন না বলেও দাবি করেছেন সাধারণ মানুষ। পিংকি অবশ্য দাবি করেন, তিনি মোটেই অন্যায় কাজকে সমর্থন করেন না। তিনি বলেন, ‘পঞ্চায়েত অফিসের মধ্যে এই ধরনের অনৈতিক কাজ হয় না। তবে গত দুদিন আমি পঞ্চায়েতে যেতে পারিনি। তাই যে অভিযোগগুলো উঠছে সেগুলো খতিয়ে দেখব।’
বিজেপির পক্ষ থেকে নবীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে বালিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তাঁকে ফোন করা হলে মোবাইল সুইচড অফ বলে। এখন দেখার, দল আদৌ নবীর বিরুদ্ধে কোনরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা!

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *