Special News Special Reports State

খানাকুলের ভূমিপুত্র সাকিমকে দলে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার ভাবনা

0
(0)

খবর লাইভ : যেমন গুরু তেমন তাঁর শিষ্য। ফুটবলে পেপ গুয়ার্দিওলা-লিওনেল মেসি জুটির কথা সকলেই জানেন। তবে রাজনীতিতেও যে অনেকেই গুরুকে অনুসরণ করেন তা অনেকেই জানে। তেমনই এক চরিত্র হুগলির খানাকুলের বাসিন্দা শেখ সাকিম। যিনি কিছু পাওয়ার আশায় রাজনীতি করেন না কিছু দেওয়ার আশায় করেন। আর তাই তো আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলকে জেতানোর পিছনে বড় ভূমিকা থাকলেও কিছু না পেয়েও দলের কাজে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন।

রাজনীতিতে মুকুল রায়কে গুরু হিসেবে মানেন। একসময় তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড মুকুলকে সকলের চাণক্য হিসেবেই জানেন। রাজনীতিতে তাঁর মতো বুদ্ধিমান, সাংগঠনিক ব্যক্তি খুব কমই আছে। সেই মুকুল ঠাণ্ডা মাথায় কিভাবে বিরোধীদের বিষধর ভাঙা যায় তার অস্ত্র সবসময় তাঁর কাছে থাকতো। মুকুলের মতোই সাকিমও নিজেকে পুরশুড়া, খানাকুলের পাশাপাশি আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নিজের ক্যারিশমা তুলে ধরতে পেরেছে।
আরামবাগ মহাকুমার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের সংগঠন বেহাল দীর্ঘদিন ধরে। বিশেষ করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রভাবে আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল এবং পুরশুড়া এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে একাধিক গোষ্ঠীর জেরে নাজেহাল অবস্থা তৃণমূলের। দুর্নীতি ও বেআইনি কাজে একাধিক নেতার নাম জড়িয়েছে। তার ওপর নেতাদের একাংশের বাবুয়ানাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে। কেউ বিপদে পড়লে তাঁকে রক্ষা করতে যে উদ্যমের দরকার তা খানাকুলের বেশিরভাগ নেতার মধ্যে নেই। তবে ব্যতিক্রম চরিত্র কিছু কিছু আছে। তাঁদেরই একজন সাকিম।
করোনা আবহে সাকিমের জনসেবা দেখেছিল গোটা খানাকুল বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ। যেভাবে ঝাঁপিয়ে নিজের সম্পত্তি থেকে মানুষের সেবা করেছিলেন তাতে উপকৃত হয়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। জনগণের নেতা হলেও তৃণমূল অবশ্য তাঁকে সেই সম্মান দিতে পারেনি। তবুও তিনি দলের জন্য মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। চলতি বছরে ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের মানুষকে। বন্যা কবলিত মানুষকে শুকনো খাবার, বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী, পানীয় জল, ত্রিপল সহ বহু জিনিস সাহায্য করতে দেখা গিয়েছিল সাকিমকে। এক্ষেত্রে অবশ্য খুব কম সংখ্যক নেতাকেই মানুষের সেবা করতে দেখা গেছে। সেখানে সাকিম যেন একাই অর্জুন, শ্রীকৃষ্ণ এবং কর্ণের চরিত্র পাঠ করছিলেন। অর্থাৎ সব জায়গাতেই তাঁকে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা গিয়েছিল।
তবে এবার বোধহয় শিকে ছিঁড়তে চলেছে সাকিমের। কারণ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেক নজরে রয়েছেন খানাকুলের এই ভূমিপুত্র। অনেকেই অভিষেকের কান ভাঙানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এবার হয়তো দলে যোগ্য সম্মান পেতে পারেন সাকিম।
সাকিম অবশ্য পদের আশাতে দল করেন না বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের সেবার জন্য দল করি। কোনও পদ না পেলেও এভাবেই মানুষের সেবা করে যাব। যতদিন না মৃত্যু হচ্ছে ততদিন তৃণমূল ছেড়ে কোথাও যাব না।’
খানাকুল বা পুরশুড়া এই দুটি বিধানসভা বিজেপির দখলে থাকলেও জনসেবামূলক কাজে সাকিমকে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *