খবর লাইভ : বাংলায় অব্যাহত সাধু-বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট ব্যাঙ্ক জোরাল করতেই সন্ন্যাসীদের আক্রমণ করছেন। গত রবিবার বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে সে কথা আগেই বলে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার পুরুলিয়ার বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় মাহাতোর নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চে দাঁড়িয়েই অমিত শাহ আরও এক ধাপ এগিয়ে বললেন, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ. স্বামী প্রণবানন্দ না থাকলে বাংলা বাংলাদেশ হয়ে যেত।মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তোপ, ভোটে জিততে ত্যাগী, তপস্বী, সন্ন্যাসীদের আক্রমণ বন্ধ করুন। আপনি এমনিও জিতবেন না।
আরও পড়ুনঃ ১৪ বছরের ওবিসি শংসাপত্র বাতিল, কোপ পড়ছে না চাকরিতে
বাংলার ইতিহাসে সাধুসন্তদের অবদান মনে করাতে গিয়ে হিন্দু মিলন মন্দিরের প্রবর্তক স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শাহ। তাঁর দাবি, স্বামী প্রণবানন্দ তথা ভারত সেবাশ্রম না থাকলে আজ বাংলা মিশে যেত বাংলাদেশে। আর মমতা দিদি ভোটে জেতার জন্য তাঁদেরই আক্রমণ করছেন। বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্যকে ঘিরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন, বেলডাঙার ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কার্তিক মহারাজ তৃণমূলের এজেন্ট বসতে দেননি।
কার্তিক মহারাজ যদিও দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ মিথ্যা। হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ। মুখ্যমন্ত্রীকে আইনি নোটিশ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিতর্ক বাড়িয়ে শিলিগুড়িতে রামকৃষ্ণ মিশনের ওপর হামলা। এই পরিস্থিতি বাংলায় এসে আরও একবার মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধলেন শাহ। তিনি বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সন্ন্যাসী যাঁরা রয়েছেন, তারা তাকে হারানোর চেষ্টা করছেন। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ, রামকৃষ্ণ মিশনকে দোষারোপ করছে।অমিত শাহর সংযোজন, মমতা দিদি যদি ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ না থাকত, স্বামী প্রণবানন্দ না থাকলে বাংলা বাংলাদেশ হয়ে যেত। নির্বাচন জেতার জন্য যোগী, সন্ন্যাসী সাধুদের হামলা করা বন্ধ করুন। আপনি এমনিতেও নির্বাচন জিততে পারবেন না।কাঁথিতে দাঁড়িয়ে শাহী হুঁশিয়ারি, ভোটে জেতার জন্য ত্যাগী, তপস্বী, সন্ন্যাসীদের আক্রমণ বন্ধ করুন।
মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য তাঁর বক্তব্যের স্পষ্ট ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সাধু সন্ন্যাসী সকলে নন, তবে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, যাঁরা বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। এদিন শাহর বক্তব্যের প্রসঙ্গে তৃণমূলের তরফ থেকে বলা হয়েছে, আমরা গেরুয়া বসনের গরিমা স্বামী বিবেকানন্দের থেকে শিখি। যোগী আদিত্যনাথের থেকে স্বীকার করা। যে প্রতিষ্ঠান, সংস্থাগুলোর কথা বলছেন, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারা কতটা উপকৃত হয়েছে, তা সংস্থার প্রধানরাই স্বীকার করেছেন। ব্যক্তিগত কয়েকজন বিজেপিকে সাহায্য করার জন্য বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চে বসে কথা বলছেন।
এদিন বাংলায় জোড়া সভা করেছেন শাহ। ডেবরা এবং কাঁথির সভা থেকে তিনি দাবি করেছেন, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি যে ফের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, সেটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। পাঁচ দফার ভোটেই ৩১০ আসন দখল করে ফেলেছে বিজেপি। লড়াই শুধু ৪০০ আসন পাওয়ার। শুভেন্দুর গড় থেকে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলার মানুষের কাছে ফের ৩০টি আসন প্রার্থনা করেছেন।
t



