খবর লাইভ : গত তিন বার আওয়ামী লীগের টিকিটে জয়ী আনোয়ারুল আজিম ১২ মে, রবিবার কলকাতায় এসেছিলেন। ১৪ মে থেকে তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় সাংসদের সঙ্গে তাঁর বাংলাদেশের পরিবারের কোনও সম্পর্ক নেই। সাংসদের পরিবারের তরফে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দিল্লি ও কলকাতার কূটনৈতিক ভবনে জানানোর পরে শনিবার থেকে তাঁরা খোঁজ খবর শুরু করেছেন।
চিকিৎসা ও বন্ধুর মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে ভারতে এসেছেন টানা তিনবারের এই সংসদ সদস্য। ১৫ মে থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এ ঘটনায় কলকাতার উত্তর শহরতলির বরাহনগর থানায় ডায়েরি করেছেন তাঁর বন্ধু গোপাল বিশ্বাস।আনোয়ারুল আজিম উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বরাহনগরে তাঁর বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন। ১৫ মে ওই বাড়ি থেকে বের হন। ওই দিন সন্ধ্যার পর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ১৬ মে পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৩ মে বেলা পৌনে ১টায় ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশে বন্ধুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান আনোয়ারুল আজিম আনার।
যাওয়ার সময় তিনি বলে যান, দুপুরে খাবেন না। সন্ধ্যায় ফিরবেন। নিজেই গাড়ি ডেকে বিধান পার্ক এলাকায় ক্যালকাটা পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে গাড়িতে উঠে চলে যান। সন্ধ্যায় না ফিরে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিয়ে জানান, তিনি দিল্লি চলে যাচ্ছেন। দিল্লিতে গিয়ে তিনিই ফোন করবেন।
এরপর, ১৫ মে ভারতীয় সময় বেলা ১১টার কিছু পর হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করে জানান, তিনি দিল্লি পৌঁছে গেছেন। তাঁর সাথে বেশ কিছু ভিআইপি ব্যক্তি রয়েছে, তাই তাকে ফোন করার দরকার নেই। দরকারে তিনিই ফোন করবেন। ১৭ মে আনোয়ারুল আজিমের কন্যা গোপাল বিশ্বাসকে ফোন করে জানান, তিনিও তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ওই ঘটনার পর থেকেই গোপাল বিশ্বাসও বন্ধু আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারেননি।
বিষয়টি নিয়ে গোপাল বিশ্বাসকে তাঁর মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তাঁর বাড়ি গেলে একজন জানান, গোপাল বাড়িতে নেই।
ডায়েরি করার পর ইতিমধ্যে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (সাউথ জোন) অনুপম সিং তদন্ত শুরু করেছেন। ব্যারাকপুর পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তারা একটি অভিযোগ পেয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনও সফলতা আসেনি।




