খবর লাইভ : পাকদন্ডি বেয়ে বক্সা পাহাড়ের স্থূলাকায় ১০০ কেজির পালকি অ্যাম্বুলেন্স কাঁধে করে রোগী বয়ে নিয়ে যেতে বেহারাদের অবস্থা খুবই সঙ্গীন হত এতদিন। এবার পালকি অ্যাম্বুলেন্স বহনকারী বেহারাদের জন্য খুশির খবর নিয়ে এলে জেলা প্রশাসন। ১০০ কেজির স্থূলাকায় পালকি অ্যাম্বুলেন্স এবার অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে মাত্র ৪০ কেজির স্লিম হয়ে পরিষেবা দিতে তৈরী বক্সা পাহাড়ের মানুষদের। আলিপুরদুয়ার জেলার দুর্গমতম স্থান বক্সা পাহাড়ে গাড়িঘোরা চলাচলের কোন রাস্তা নেই। বক্সা, লেপচাখা, আদমা, চুনাভাটির মত তেরোটি গ্রামের মানুষদের কিছুদিন আগে পর্যন্ত অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য,বাঁশের মাচায় কাঁধে করে নামানো হত সমতলে।তারপর জেলা প্রশাসন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্যে সেখানে চালু করে অভিনব পালকি অ্যাম্বুলেন্স।চালুর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে সেটি। কিন্তু ভারী কাঠের তৈরি সেই পালকি অ্যাম্বুলেন্স পাকদন্ডি ধরে বয়ে নিয়ে যাওয়া খুব কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায় বেহারাদের পক্ষে। তবুও দুর্গম এলাকার রুগীদের কথা চিন্তা করে তারা এই পরিষেবার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এবার তাদেরই কাঁধ থেকে বোঝা কমাতে কাঠের বদলে অপেক্ষাকৃত হালকা বেতের তৈরি পালকি অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করে ফেলেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফ্যামিলি প্লানিং এসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার কালচিনি শাখা। পালকি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে সংস্থার কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা খরচ করে পাঁচ ফুট লম্বা, আড়াই ফুট চওড়া পালকিটি তৈরি করা হয়েছে। ছাউনি দিতে ব্যবহার করা হয়েছে প্যারাসুট কাপড়। ভেতরের অতিরিক্ত জিনিস সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ওজন আরও হালকা করতে।
আরও পড়ুনঃ জয় দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ শুরু ভারতের, অজিদের হারাল ৫ উইকেটে
এই প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার জেনারেল ম্যানেজার তুষার চক্রবর্তী জানান, অতিরিক্ত ওজনের জন্য খুব সমস্যা হচ্ছিল পালকি অ্যাম্বুলেন্স বইতে, তাই আমরা বেতের পালকি তৈরী করে ওজন অর্ধেকের বেশি কমিয়ে ফেলেছি। এবার পাহাড় থেকে রোগী বয়ে নামাতে অনেকটাই কষ্ট কম হবে বেহারাদের।
এই প্রসঙ্গে জেলাশাসক আর বিমলা বলেন, এটা জেলা প্রশাসনের একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, আমরা জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সবসময় চেষ্টা করব যাতে বক্সা পাহাড়ের মানুষদের আরো বেশি স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কিত সুবিধা প্রদান করা যায়।




