খবর লাইভ : চোপড়ার পর এবার ভাঙড়। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিনে মুহুর্মুহু গুলি-বোমা চলল ভাঙড়ে। তৃণমূল এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর মধ্যে বোমা এবং গুলির লড়াইয়ে আবার অশান্ত হয়ে উঠল ভাঙড়। তার জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক আইএসএফ কর্মী এবং এক তৃণমূল কর্মীর। সংঘর্ষের জেরে জখম হয়েছেন এক তৃণমূল কর্মীও। এমনটাই দাবি যুযুধান দুই পক্ষের। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ভাঙড়ে অশান্তি নিয়ে আইএসএফকেই দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মৃত্যু হয়েছে মহম্মদ মহিদ্দিন মোল্লা নামে এক আইএসএফ কর্মীর। এমনটাই দাবি আইএসএফ নেতৃত্বের। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন রশিদ মোল্লা নামে এক তৃণমূল কর্মীরও। তিনি জীবনতলার বাসিন্দা। তাঁর তিনটি গুলি লেগেছে বলে তৃণমূলের দাবি। ভাঙড়ের জখমদের মধ্যে সেলিম মোল্লা নামে ভাঙড়ের এক যুবককে ভর্তি করানো হয়েছে আরজি কর হাসপাতালে। তাঁর দেহে বুলেটের ক্ষত রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রামে টিকিট পেলেন না সুফিয়ান, বিকল্প প্রার্থী সামসুল
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মতো কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ভাঙড়ে মনোনয়ন জমা দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন ৮২ জন বিরোধী প্রার্থী। স্থানীয় সূত্রে খবর, ভাঙড়ের সোনপুর বাজারের কাছে তাঁদের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলিতে মৃত্যু হয় এক আইএসএফ কর্মীর। এদিকে আইএসএফের অভিযোগ, এদিন পুলিশ এসকর্ট করে নিয়ে যাচ্ছিল মনোনয়ন জমা দিতে। তখনই দুষ্কৃতীরা বিরোধী প্রার্থীদের উপর হামলা চালায়। একের পর এক গুলি ও বোমা ছুঁড়তে থাকে দুষ্কৃতীরা। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। তৃণমূলের অভিযোগ, ইচ্ছে করেই নির্বাচনের আগে ভাঙড়ে অশান্তির চেষ্টা করছে আইএসএফ।
তবে এদিন হামলা চলাকালীন আশেপাশের বেশকিছু দোকানে ভাঙচুরও চালায় দুষ্কৃতীরা। ভেঙে দেওয়া হয় একাধিক গাড়ি। বাদ যায়নি পুলিশের গাড়িও। এরপরই আইএসএফ কর্মীরা ভাঙড়ে অবাধে লুঠপাট ও দাপাদাপি চালায় বলে অভিযোগ। এরপরই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। অবস্থা সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। মনোনয়নের শেষপর্বে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড়। দুপুরের পর আদালতের নির্দেশে বিরোধীদের মনোনয়ন ঘিরে যে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাতে প্রাণ গেল এক আইএসএফ কর্মীর। সংঘর্ষ চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও আক্রান্ত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে বাধ্য হয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কমব্যাট ফোর্সও নামানো হয়।




