খবর লাইভ : হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকে লাগাতার নিম্নমুখী আদানি গোষ্ঠীর শেয়ার। এই সংস্থায় বিনিয়োগকারীদের তালিকায় সবচেয়ে উপরের সারিতে রয়েছে ভারতীয় জীবনবিমা সংস্থা এলআইসি। আদানিতে বিনিয়োগের মাশুল এবার গুনতে হল এলআইসিকে। ব্যাপকভাবে পড়ল এলআইসির শেয়ারের দাম। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে আদানি শিল্পগোষ্ঠীতে এলআইসি যে বিনিয়োগ করেছিল, তা নেগেটিভ হয়ে গিয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, শেয়ার বাজারে আদানি গোষ্ঠীর ৭ টি লিস্টেড কোম্পানিতে ধস নামার জেরে এলআইসির ক্ষতি হয়েছে ৪৯ হাজার ৭২৮ কোটি টাকার। আদানি এন্টারপ্রাইজ, আদানি গ্রিন এনার্জি, আদানি পোর্টস, আদানি টোটাল গ্যাস এবং অম্বুজা সিমেন্টের শেয়ারে এলআইসি-র যে বিনিয়োগ ছিল তার মূল্য কমে ৩৩,২৪২ কোটি টাকা হয়েছে। সেই মূল্য ডিসেম্বর মাসে ছিল ৮২ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা।
অর্থাৎ আদানি শিল্পগোষ্ঠীতে এলআইসি যে বিনিয়োগ করেছিল, তা নেগেটিভ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ এলআইসির সম্পদ তো বাড়েইনি উলটে তা ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে।
শুক্রবারের বাজার রিপোর্ট অনুযায়ী, বাজার শুরু হওয়ার সময়ে এলআইসির বাজারদর ছিল ৫৯১ টাকা। এরপরই খবর রটে যায় আদানি শিল্পগোষ্ঠীতে এলআইসি-র বিনিয়োগ নেগেটিভ হয়ে গেছে, ওমনি শেয়ারের দাম পড়তে শুরু করে।
দিনের শেষে এলআইসির শেয়ারের দাম নেমে পৌঁছয়। ৫৮৪.৬০ টাকায়। অন্যদিকে, লাগাতার পতন থামছে না আদানি সংস্থার শেয়ারে। শুক্রবারও এই সংস্থার কার্যত সব শেয়ারেই ব্যাপক পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি প্রকাশ্যে আসে হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট। তার আগে ২৪ জানুয়ারি আদানিদের তালিকাভুক্ত ১০ কোম্পানির মোট শেয়ার মূল্য বা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ছিল ১৯ লক্ষ কোটি টাকা। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ঠিক এক মাস পরে ওই ১০ কোম্পানির মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন দাঁড়িয়েছে ৭.২ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসে আদানিদের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন কমেছে প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকা। লগ্নিকারীদের আস্থা ফিরে পেতে আদানিরা নানা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও পতন ঠেকানো যাচ্ছে না।




