খবর লাইভ : শুক্রবার নিউ ইয়র্ক থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে শতকা ইনস্টিটিউশনের মঞ্চে বক্তৃতা করতে ওঠার সময় রুশদির উপর হামলা চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মঞ্চে কারও সঙ্গে পরিচয় করানো হচ্ছিল লেখককে। সেই সময় আচমকা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এক ব্যক্তি। চলতে থাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো। ওই সময় যাঁরা মঞ্চে ছিলেন, তাঁরা সঙ্গে সঙ্গেই হামলাকারীকে ধরে ফেলেন। মেরেকেটে ২০ সেকেন্ডের মধ্যে ১০-১৫ বার কোপানো হয়েছে রুশদিকে। সূত্রের খবর, তাঁর ঘাড়ে কোপ মারা হয়েছে।
আততায়ীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হন বুকারজয়ী লেখক সলমন রুশদি। গুরুতর জখম রুশদিকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ। নিউ ইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে হামলাকারীকে। কেন সে হামলা চালিয়েছে তা জানতে ধৃতকে জেরা চলছে। রুশদির ওপর এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছে গোটা বিশ্ব। বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে রুশদির শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়। একাধিক দেশের তরফে রুশদির দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকও রুশদির উপর আক্রমণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রথম ঝলকে প্রেক্ষাগৃহে হাজির দর্শকেরা ভেবেছিলেন, হয়তো কোনও ‘স্টান্ট’ চলছে মঞ্চে। লহমায় সেই ভুল ভাঙতেই দর্শকেরা দেখলেন — সত্যিই গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছুরি দিয়ে কোপানো হচ্ছে সলমন রুশদিকে! সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে দৃশ্যতই সন্ত্রস্ত দেখাচ্ছে প্রত্যক্ষদর্শীদের।
উল্লেখ্য, ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর মতো বই লিখে গোটা বিশ্বে আলোড়ন ফেলেছিলেন রুশদি। ওই বই প্রকাশের পর ১৯৮৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছিলেন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খোমেইনি।




