খবর লাইভ : নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে বৃহস্পতিবারই দিল্লি রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কৌতুহল তুঙ্গে। আর এই নীতি আয়োগের বৈঠকেই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে ‘শিক্ষা নীতি’। অন্তত তেমনটাই নবান্ন সূত্রে খবর।
২০২০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সারাদেশে একটি শিক্ষানীতির তৈরির জন্য ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’ তৈরি করেছে। আর সেই শিক্ষানীতি নিয়েই এবার নীতি আয়োগের পরিচালন পর্ষদের বৈঠক।
নবান্ন সূত্রে খবর এই বিষয় নিয়ে সম্প্রতি মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি-সহ একাধিক স্কুল শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকেই এই গোটা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় বলেই নবান্ন সূত্রে খবর।
শিক্ষক নিয়োগে চাকরিপ্রার্থীদের ঝুলিতে এবার ‘বড়’ আশ্বাস!
মূলত ‘কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির’ একাধিক অংশে আপত্তি রয়েছে রাজ্যের। যা শিক্ষানীতি তৈরির সময় থেকেই বারবার জানিয়ে এসেছে রাজ্য। সূত্রের খবর রাজ্য সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পৃথক শিক্ষা নীতি তৈরি করতে চায়। যদিও কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির একাধিক অংশ কার্যকরী না হলে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা সমস্যার মধ্যে পড়বেন বলেও মেনে নিচ্ছেন আধিকারিকরা।
সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি রাজ্য পৃথক শিক্ষানীতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করলেও বাকি অংশগুলি নিয়ে আপত্তি জানাবে। আর সেই আপত্তির অংশগুলি নীতি আয়োগের পরিচালন পর্ষদের বৈঠকে তুলে ধরতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মধ্যে রয়েছে দশম ও দ্বাদশ এই দুটি ক্লাসকে একটি মাত্র বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া-সহ একাধিক সুপারিশ। স্কুল শিক্ষার পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষা নিয়েও একাধিক সুপারিশ নিয়ে আপত্তি রয়েছে রাজ্যের। তাই সব মিলিয়ে রাজ্য পৃথকভাবে শিক্ষানীতি তৈরি করতে চাইলেও কেন্দ্রের শিক্ষানীতির কয়েকটি অংশ নীতিগতভাবে মেনে নিলেও বাকি অংশগুলি যে কার্যকরী করবে না নীতি আয়োগের পরিচালন পর্ষদের বৈঠকে তা তুলে ধরতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার দিল্লি সফরে সঙ্গী অভিষেক, সাংসদদের সঙ্গে রণকৌশলে জোর
একাংশের মত শিক্ষা যুগ্ম তালিকাভূক্ত বিষয়। সেক্ষেত্রে রাজ্য পৃথক শিক্ষা নীতি তৈরি করলেও মুখ্যমন্ত্রী নীতি আয়োগ এর পরিচালন পর্ষদের বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির কয়েকটি অংশ আপত্তি তুলে দিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারেন রাজ্যের আপত্তির অংশগুলি। শিক্ষানীতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পে যে রাজ্য টাকা পাচ্ছে না সেই প্রসঙ্গ নীতি আয়োগের বৈঠকে তুলে ধরতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লি সফরে দেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মূর্মুর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী সোমবার কলকাতার ফেরার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।



