Special News Special Reports

ধৃত প্রবীরের পরিবারের দাবি, বিধায়ক তাপস তো পেতেনই; তৃণমূলের তহবিলেও জমা পড়ত টাকা!

0
(0)

খবর লাইভ : এলাকার মানুষজন প্রবীর কয়ালকে বিধায়কের আপ্ত সহায়ক বলেই চেনেন। নদিয়ার তেহট্টের বিধায়ক তাপস সাহা যদিও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সেই প্রবীরকে নিজের আপ্ত সহায়ক বলে মেনে নেননি। নিজের বিধানসভা এলাকার মানুষ হিসেবেই তাকে চিনতেন বলে তাপসের দাবি। এ বার সেই প্রবীরের পরিবার তাপসের বিরুদ্ধে মুখ খুলল। ধৃতের স্ত্রী এবং শ্বশুর-শাশুড়ির দাবি, প্রবীর টাকা তুলে নিজের কাজেই শুধু ব্যবহার করেনি, নিয়মিত দলীয় তহবিলে জমা দিয়েছে। এমনকি তাপসের জন্যও সে গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রচুর টাকা খরচ করেছে। অন্যান্য কাজেও তাপসকে টাকা দিত প্রবীর। তেহট্টের বিধায়ক যদিও দাবি করেছেন, প্রবীর তাঁকে একটি টাকাও দেয়নি।

আরও পড়ুন- পুলিশ- প্রশাসনের মদতেই বেআইনি কাজ করছেন বলে স্বীকার অভিযুক্ত প্রোমোটারের
গত শুক্রবার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে রাজ্য পুলিশের দুর্নীতিদমন শাখা প্রবীর-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করে। প্রবীরের শ্বশুরবাড়ি তেহট্টের খাসপুরে। সেখানে স্ত্রী, চার বছরের ছেলের সঙ্গে তার শ্বশুর-শাশুড়িও থাকেন। শ্বশুর সাধন বিশ্বাস টোটো চালিয়ে সংসার চালান। দিনে গড়ে ২০০ টাকা রোজগার। কিন্তু বাড়িতে ঢুকলে অন্য বৈভব দেখা যায়। সবই জামাইয়ের টাকায় বলে সাধনের দাবি। সোমবার সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, দাওয়ায় বসে রয়েছেন প্রবীরের স্ত্রী পিয়ালি। কোলে বছর চারেকের ছেলে সৃজন। প্রবীরের কথা উঠতেই কেঁদে ফেললেন। বললেন, ‘‘বাড়িতে অনেক মানুষ আসা-যাওয়া করত। টাকাপয়সার লেনদেনও হত। কিন্তু এ বিষয়ে জানতে চাইলেই মারধর করত।’’

মারধরের অভিযোগ যদিও একা পিয়ালি নন, করছেন তাঁর মা-বাবাও। প্রবীরের শ্বশুর সাধন তাঁর স্ত্রী শেফালির হাত-পায়ের কালশিটের দাগ দেখিয়ে অভিযোগ করছেন, ‘‘প্রশ্ন করলেই মারধর করত আমাদের। এখনও রক্ত জমাটের দাগ মিলিয়ে যায়নি।’’
সাধনের দাবি, তাঁরা সবই বুঝতে এবং জানতেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘টাকা কি সব ও একা খেয়েছে! পার্টি ফান্ডে টাকা দিত নিয়মিত। বিধায়ক তাপস সাহার ভোটের সময়েও খরচ করেছে। এ ছাড়া তাপসের ব্যক্তিগত কাজের জন্যও অনেক খরচা করতে হত প্রবীরকে।’’ শেফালি যোগ করলেন, ‘‘আমরা ওকে বার বার বলেছিলাম সব ছেড়ে দাও। কিছু বললেই ও বলত, আমার কিছু হবে না। আমার উপরে বড় হাত আছে।’’

বিধায়ক যাই বলুন না কেন, বাস্তব চিত্র কিন্তু বলছে যে খাসপুরের অনেকেই বলছেন, তাপসের সঙ্গে দেখা করার ‘অ্যাপোয়েন্টমেন্ট’ হোক বা নানাবিধ শংসাপত্র— প্রবীরের অনুমতি ছাড়া কোনওটাই মিলত না বেলে দাবি রবীনের। সাড়ে তিন বছর আগে প্রবীরের ছেলের অন্নপ্রাশনের এলাহি আয়োজনেও প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন বিধায়ক তাপস। স্থানীয়রা বলছেন, ‘‘অভিভাবকের মতো সারাটা দিন বিধায়ককে সব কিছুর ব্যবস্থাপনায় দেখা গিয়েছিল।’’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত তিন বছরে প্রবীরের উত্থান উল্কার মতো। সাধন বলছেন, ‘‘মুড়ি-মুড়কির মতো টাকা ওড়াত। তিনটে বাড়ি। ৮ বিঘা কৃষি জমি। আমি তো দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। টোটো চালাই। এ সবই তো প্রবীরের করা।’’
যদিও পিয়ালি-সাধনদের এই সব অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছেন তেহট্টের বিধায়ক।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *