
খবর লাইভ : এ যেন ভূতের রাজত্ব! যে যেমন পারছে করছে। হাওড়ার জগৎবল্লভপুর বিধানসভার বড়গাছিয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চিত্র ঠিক সেরকমই। একের পর এক সরকারি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখল করে আসার অভিযোগ ছিল বহুদিন থেকেই। তবে গত তিন বছরে বড়গাছিয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একের পর এক সরকারি নয়ানজুলি, ডোবা ভরাট করে যেভাবে দিনের পর দিন বেআইনি নির্মাণ হয়ে চলেছে তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তৃণমূলের একাংশ। এলাকার মানুষজন সরাসরি এই বেআইনি নির্মাণের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত প্রধানের অনুমতি না থাকলে কেউ এভাবে জেলা পরিষদ বা পূর্ত দফতরের জায়গা দখল করে বেআইনি নির্মাণ করতে পারে না। এলাকার সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন। জগৎবল্লভপুরের বিধায়ক সীতানাথ ঘোষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
হাওড়া জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র জগৎবল্লভপুর। বরাবরই এখানে তৃণমূলের মজবুত সংগঠন থাকলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। পাশাপাশি জগৎবল্লভপুর বিধানসভার বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি কাজে সরাসরি নাম উঠে এসেছে তৃণমূলের বেশ কিছু নেতার। কখনও মহম্মদ ইব্রাহিম ওরফে গোরা বা কখনও অন্য কোনও নেতার নাম বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বড়গাছিয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চিত্রটা বড়ই বেহাল। বড়গাছিয়ার সকালবেলা বাজারের সামনে জেলা পরিষদের জায়গায় ডোবা বুজিয়ে রমরমিয়ে চলছে বেআইনি প্রোমোটিংয়ের কাজ। এই কাজটি করছেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের এক আত্মীয় বলে অভিযোগ। এছাড়াও বড়গাছিয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনে ধর্মতলার কাছে নয়ানজুলির উপর বেআইনি নির্মাণ চলছে। এটিও সরকারি জায়গা। এর ফলে জলনিকাশি ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় লোকজনের।
এছাড়া ওই পঞ্চায়েতেরই মধ্য সন্তোষপুর এলাকায় একের পর এক সরকারি ডোবা ও নয়ানজুলি বুজিয়ে চলছে বেআইনি নির্মাণ। স্থানীয় পঞ্চায়েত যেমন বিষয়টা নিয়ে চুপ করে রয়েছে তেমনই নিষ্ক্রিয় প্রশাসনও। এলাকাবাসীদের একাংশের দাবি, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে অসাধু কিছু প্রোমোটারের যোগসাজশেই এই বেআইনি কাজ হচ্ছে। যদিও পঞ্চায়েত প্রধানের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জগৎবল্লভপুরের বিধায়ক সীতানাথ ঘোষ বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। সরকারি জায়গা কেউ এভাবে দখল করতে পারে না।
হাওড়া জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, আমরা শীঘ্রই প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলব। অভিযুক্ত প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেব তেমনই এর সঙ্গে যারা যারা জড়িত রয়েছে তাদেরও ছেড়ে কথা বলা হবে না।




