
খবর লাইভ : পদ চলে গেলেও রাজার রাজত্ব অটুট। ঠিক তেমনই চিত্র হুগলির পুরশুড়ায়। একসময় পুড়শুড়া ব্লকের যুব তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন খোকন মল্লিক। বছর দেড়েক আগে তাঁর সেই পদ চলে যাওয়ার আগে হুগলি জেলার এক প্রথম সারির তৃণমূল নেতার প্রশ্রয়ে পুড়শুড়ার বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছিলেন খোকন। তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক বেআইনি কাজের অভিযোগ উঠতে থাকে। কখনও সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তো কখনও আবার বেআইনি নির্মাণে মদত দেওয়া বা অবৈধভাবে দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরী থেকে বালি তোলার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু জেলার এক নেতার হাত তাঁর মাথায় থাকার কারণে প্রতিবারই রেহাই পেয়ে যান। খোকনের বেআইনি কাজের মাশুল গুনতে হয় ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে। পুরশুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ২৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পিছিয়ে থাকে তৃণমূল। তবে তারপরও তাঁর বেআইনি কাজ চলতে থাকে বলে অভিযোগ। যার ফলে গত বিধানসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রে হারতে হয় তৎকালীন হুগলি জেলার সভাপতি দিলীপ যাদবের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকে।
যুব সভাপতির পদ থেকে খোকনকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাঁর বেআইনি কাজ অবশ্য এখনও বন্ধ করতে পারেনি। এলাকার লোকজনের অভিযোগ, সম্প্রতি চিলাডাঙির সুদরুষেতে টাকার বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণে মদত দিচ্ছিলেন খোকন মল্লিক। প্রশাসন অবশ্য সেই অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, এলাকাবাসীদের আরও দাবি, শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ভুয়েরাতে মুণ্ডেশ্বরী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা হচ্ছে। এই কাজেও সরাসরি জড়িত খোকন। পদ চলে গেলেও রাজার হালেই একের পর এক বেআইনি কাজ করে যাচ্ছেন এই তৃণমূল নেতা বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।
খোকন অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হয়েছে সব মিথ্যা। আমি এখন শুধুমাত্র তৃণমূলের একজন কর্মী।
বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, খোকনের মতো লোকজনরাই তো তৃণমূলের সম্পদ। গোটা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছেন।




