
খবর লাইভ : এক প্রৌঢ়ার মৃত্যু ঘিরে বিতর্কে জড়ালেন হুগলির ধনিয়াখালি থানার ওসি। গত ১১ জানুয়ারি নিউ চাঁদপুরের চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা দুর্গা গায়েনের মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ তাঁকে খুন করা হয়েছে। স্বামী নিমাই গায়েন দুর্গাকে খুন করেছেন বলে মৃতের বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ। সেইমতো ১২ জানুয়ারি মৃতের ভাই রঘুনাথ কর ধনিয়াখালি থানায় যান অভিযোগ করতে। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে ফিরিয়ে দেয়। তাঁকে ডিউটি অফিসার জানিয়ে দেন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে তবেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হবে। রঘুনাথ থানা থেকে ফিরে আসেন। এবিষয়ে জানতে ধনিয়াখালি থানার ওসি নিরুপম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কোনও অভিযোগ কেউ করতে আসেননি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে তবেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হবে।’ পরে অবশ্য তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, ‘অভিযোগ মৃতের বাপের বাড়ির লোকজন যদি করেন তবে মৃতের শ্বশুরবাড়ির লোকজনও করবেন বলেছেন। তাহলে দু’পক্ষেরই অভিযোগ নিতে হবে।’ একজন ওসি কীসের ভিত্তিতে এধরনের কথা বলতে পারেন? দুর্গার দেহ কোথা থেকে উদ্ধার হয় ওসিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অবশ্য বলেন শ্বশুরবাড়ি থেকেই। তাহলে বাপের বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে কীভাবে অভিযোগ নিতে পারে পুলিশ! পরে ওসির বক্তব্যের কথা সিআই ধনিয়াখালি দেবাঞ্জন ভট্টাচার্যকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘দু্’পক্ষ কীভাবে অভিযোগ করতে পারে? থানায় মৃতের পরিবারের সদস্যদের যেতে বলুন আমি অভিযোগ নিতে বলছি।’
তবে তারপরও পরিবারের সদস্যরা থানায় গেলে ওসি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে তবেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করবেন বলে জানিয়ে দেন। সিআই-এর নির্দেশ অমান্য করেই ওসি মৃতের পরিবারের সদস্যদের শুক্রবার ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ।
কীসের বিনিময়ে ওসি এধরনের কথা বলতে পারেন তা ভেবে পাচ্ছেন না কেউ। মৃতের এক আত্মীয় বলেন, ‘ওসি অভিযুক্তের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তাই অভিযোগ নিতে চাইছেন না। অভিযুক্ত পালিয়ে গেলে তার দায় কে নেবে?’




