খবর লাইভ : চেয়েছিলেন হয়তো রাজ্য সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলতে। কিন্তু বিজেপির জন্য তা ভেস্তে গেল। তার জেরে মাত্র ৭ মিনিটেই বিধানসভার কাজ সেরে রাজভবনের পথ ধরলেন রাজ্যপাল।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পরে এদিন থেকেই বসেছে বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন। প্রথামতো এদিন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের ভাষণের মধ্যে দিয়েই তা শুরু হয়। তবে তার আগে একটা বড় সংশয় তৈরি হয়েছিল যে রাজ্যপাল আদৌ রাজ্য সরকারের তৈরি করে দেওয়া ভাষণ পড়বেন কী পড়বেন না তা নিয়ে। এদিন কিন্তু রাজ্যপাল খুব সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়েই বিধানসভা ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যান। আর সেই সংক্ষিপ্ত ভাষণের পাশাপাশি দ্রুত বিধানসভা ছেড়ে রাজ্যপালের চলে যাওয়ার কারণ হিসাবে বিজেপি বিধায়কদের বিক্ষোভ নথিভুক্ত হয়ে গেল।
সংসদীয় গণতন্ত্রর প্রথা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি রাজ্যেই বিধানসভার অধিবেশন শুরু হয় রাজ্যপালের ভাষণের মধ্যে দিয়ে। সেই রাজ্যের মন্ত্রিসভা ঠিক করে দেয় সেই ভাষণ যা পাঠ করেন রাজ্যপাল। তবে অতীতে এর ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছে। এবারেও কী তেমন কোনও নজির তৈরি রাজ্যপাল তৈরি করেন কিনা তা নিয়ে কৌতুহল গত কয়েক দিন ধরেই তুঙ্গে উঠেছিল। কেননা রাজ্যের লিখে দেওয়া ভাষণ যে তাঁর মনঃপূত হয়নি তা আগেই জানিয়েছেন ধনকর। এদিন অবশ্য তিনি কোনও বিতর্কে যাননি। রাজ্যপাল এদিন বিধানসভায় আসেন ঠিক দুপুর ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ। তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন জনে একসঙ্গে বিধানসভা ভবন চত্বরে বাবা সাহেব আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদানও করেন। সেই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী আর রাজ্যপাল ছিলেন একেবারে পাশাপাশি। দুজনকে কথা বলতেও দেখা যায়।
এদিন রাজ্যপাল আসার অনেক আগেই বিধানসভায় পৌঁছন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে বিজেপি বিধায়করাও। রাজ্যপাল অধিবেশন কক্ষে এসে তাঁর ভাষণ শুরু করতেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের পোস্টার নিয়ে আসন ছেড়ে ওয়েলে নেমে আসেন তাঁরা। বিজেপি বিধায়কদের বিক্ষোভে এদিন বার বার থমকে যায় রাজ্যপালের ভাষণ। সেই সময় বিধানসভার অধ্যক্ষ ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালকে কথা বলতেও দেখা যায়। পরে ফের শুরু হয় ভাষণ, কিন্তু তাও বেশিক্ষণ চলেনি। সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়েই বেরিয়ে যান রাজ্যপাল। গোটা বিষয়টি শেষ হতে মাত্র ৭ মিনিট সময় লাগে। প্রথা মাফিক বিধানসভা থেকে রাজ্যপালকে বিদায় জানান মুখ্যমন্ত্রী ও অধ্যক্ষ।




