খবর লাইভ : দেশে কোভিড-১৯ সংকট ক্রমশই ভয়াবহ হচ্ছে। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন লক্ষ ছুঁয়েছে৷ প্রতিদিন মৃত্যু হচ্ছে আড়াই হাজারের বেশি আক্রান্তের৷ মোট মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে দুই লক্ষের ঘর৷ অক্সিজেনের অভাবে দিল্লির এক হাসপাতালে মারা গেছেন ২৫ জন। হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট ও চিকিৎসার জন্য হাহাকারের চিত্র দিল্লি, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, গুজরাতসহ বিভিন্ন রাজ্যে একই রকম। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আড়াল করছে অথবা এড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বে দৈনিক করোনায় আক্রান্তের প্রায় অর্ধেকই এখন এককভাবে ভারতের মানুষ। তবে যে সংখ্যা দেখানো হচ্ছে, তা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। আক্রান্তের মধ্যে অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। হাসপাতালে বেড নেই, চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পরিবেশিত হয়েছে৷ যেখানে প্রতিদিন এত বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে, সেখানে মোট মৃত্যুর এই সংখ্যা সন্দেহজনক বলে মনে করছে তারা।
কানপুরের ভৈরবঘাট শ্মশানে জ্বলছে একের পর এক চিতা। দাহ হচ্ছে কোভিডে মৃত রোগীদের লাশ৷
বিভিন্ন রাজ্যে শ্মশানে কর্মরতদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে সংবাদপত্রটির প্রতিনিধিরা। এসব শ্মশানে চিতার আগুন নিভছেই না। করোনায় মারা যাওয়া যত মরদেহ শ্মশানে দাহ করা হচ্ছে, তা থেকে বোঝা যায়, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। বিশ্নেষকরা বলছেন, চাপের মুখে রাজনীতিকরা ও স্বাস্থ্য দফতর মৃতের বিশাল সংখ্যা লুকিয়ে অথবা এড়িয়ে যাচ্ছেন। মোদি সরকার কোভিড সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ৷ নিজেদের অকর্মণ্যতা আড়াল করতে এই মৃত্যুর সংখ্যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে৷ এমনও দেখা যাচ্ছে, শোকাহত অনেক পরিবার করোনা সংক্রমণের তথ্য লুকিয়ে যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের মহামারি বিশেষজ্ঞ ভ্রমর মুখার্জি বলেছেন, একে তথ্য-উপাত্তের ধ্বংসযজ্ঞই বলা যায়। আমরা যেসব মডেল নিয়ে কাজ করছি, তাতে এটি পরিষ্কার, যে সংখ্যা দেখানো হচ্ছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে তিন থেকে পাঁচ গুণ।
গুজরাতের আহমেদাবাদে একটি বিশাল শ্মশান প্রাঙ্গণের চিত্র তুলে ধরেছে নিউইয়র্ক টাইমস। বলা হচ্ছে, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই সেখানে সারা সারি চিতা জ্বলছে। উজ্জ্বল কমলা আগুনে আলোকিত হচ্ছে রাতের আকাশ। সুরেশ ভাই নামে সেখানকার এক কর্মী জানান, মরদেহের নিরবচ্ছিন্ন এই দীর্ঘ লাইন তিনি আর কখনও দেখেননি। তবে তার হাতে থাকা পাতলা কাগজে মৃত্যুর কারণ হিসেবে তিনি করোনা সংক্রমণের কথা লিখছেন না। যদিও এই কাগজই তিনি শোকাহত পরিবারকে দিচ্ছেন। তাহলে কাগজে মৃত্যুর কী কারণ লিখছেন তিনি? সুরেশ ভাই বলেছেন, বিমারি, বিমারি, বিমারি। এটিই লিখে দিচ্ছি আমরা। কেন এমনটি লিখছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ঊর্ধ্বতনরা এটি লিখতে বলেছেন। তবে উচ্চপদস্থরা এ ব্যাপারে স্পিকটি নট৷
দিল্লি ও দেশের আরেক বড় শহর ভোপালের চিত্র খুবই করুণ। ভোপালের সব শ্মশান রাতদিন ব্যস্ত। ১৯৮০-এর দশকে সেখানে গ্যাস বিস্ফোরণে কয়েক হাজার মানুষ মারা যান। বাসিন্দারা বলছেন, ওই বিপর্যয়ের পর এই প্রথম শ্মশানগুলো এত বেশি ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। মধ্য এপ্রিলের ১৩ দিন ভোপালের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা ৪১ জনকে করোনায় মৃত দেখিয়েছেন। তবে একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক সমীক্ষায় ভোপালের প্রধান শ্মশানে দাহ করা মরদেহের সংখ্যা কমপক্ষে এক হাজার। ভোপালের কার্ডিওলজিস্ট জি.সি. গৌতম বলেছেন, অনেক মৃত্যুর রেকর্ড রাখা হচ্ছে না এবং দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে। লাশের মিছিল সামলাতে পারছে না দিল্লির শ্মশানগুলো। স্বজনের মৃতদেহ সৎকারের জন্য আসা পরিবারগুলোকে তারা অপেক্ষা করতে অনুরোধ জানাচ্ছে। দিল্লির নিরুপায় হাসপাতালগুলো জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন আর চিকিৎসা উপকরণের বাড়তি বরাদ্দের আদেশ চেয়ে এ সপ্তাহেই হাইকোর্টে গিয়েছিল। সেই আবেদন শুনে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, এই ‘সুনামি’ সামাল দিতে তারা কী উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছেন, যেখান থেকে যেভাবে হোক অক্সিজেন সরবরাহ করা হোক। দেশের অন্যতম বড় হাসপাতাল চেইন ফর্টিস হেলথকেয়ার বলছে, দিল্লিতে তারা আর নতুন রোগী ভর্তি করতে পারছে না। সকাল থেকে তারা অক্সিজেন হাতে পেতে অপেক্ষা করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রেন এবং আর্মির বিমানে করে দেশের বিভিন্ন অংশ, এমনকি সিঙ্গাপুর থেকেও দিল্লিতে অক্সিজেন পরিবহণের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। জার্মানি থেকে অক্সিজেন উৎপাদন প্ল্যান্ট আনা হচ্ছে৷ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, করোনা ভাইরাস কী ঘটাতে পারে, ভারত ভয়ংকরভাবে তা প্রত্যক্ষ করছে।
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…