Bengal and District District National

পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, তৃণমূলের হাত ধরলেন গুরুং

5
(1)

খবর লাইভ : তিন বছর পর প্রকাশ্যে রাজনৈতিক ভোল পাল্টালেন ‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা’-র প্রাক্তন সভাপতি বিমল গুরুং। গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে সামনে রেখে বিজেপি তথা এনডিএ-তে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এবার বিজেপির হাত ছেড়ে রাজনৈতিকভাবে গোর্খাল্যান্ড সমস্যা সমাধানের দাবি নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলেন একদা কোণঠাসা এবং পাহাড়ের বহিষ্কৃত এই নেতা। কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সেকথা ঘোষণা করেন তিনি। তবে পাখির চোখ যে ২০২১ বিধানসভা ভোট তা বলাই বাহুল্য!
টানা তিন বছর অজ্ঞাতবাসে থেকে একাধিক মামলায় জর্জরিত, কোণঠাসা বিমল গুরুং শেষ পর্যন্ত তৃণমূলেই ফিরলেন। মঙ্গলবার আচমকাই গুরুং ঘোষণা করেন, সল্টলেকের গোর্খা ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করবেন তিনি। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সেখানে পৌঁছে দেখেন, গোর্খা ভবনের ভিতর থেকে তালা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় থানার পুলিশকে ডেকে কোনও সুবিধা না পেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধর্মতলায় একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর দুঃসময়ের সঙ্গী রোশন গিরিও। বৈঠকে সাংবাদিকদের তিনি জানান, বিগত ছ’বছর ধরে তাঁর দল বিজেপি’র জোটসঙ্গী ছিল। তারপরেও কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের ‘গোর্খাল্যান্ড’-এর দাবি নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। কথা দিয়েও কথা রাখেনি কেন্দ্র। এরপরই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুণগান গাইতে শুরু করেন। বলেন, ‘একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দেখলাম, যা বলেন সে কথা রাখেন।’ গুরুং আরও বলেন, ‘২০২১ সালে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চাই।’ সেইসঙ্গে এও জানিয়ে দেন, গোর্খাল্যান্ডের দাবি থেকে তাঁরা সরে আসবেন না। তবে গোর্খাল্যান্ড দাবির রাজনৈতিক সমাধান চান। তাই তিনি ২০২১ বিধানসভা ভোটে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরতে চান।
প্রসঙ্গত, গুরুংয়ের আগে এভাবে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘মুখ্যমন্ত্রী পদে’ দেখতে চাওয়ার কথা বলেছিলেন জঙ্গলমহল আন্দোলনের সময় নিহত মাওবাদী পলিটব্যুরো নেতা কিষেনজি। এখনও রাজ্য পুলিশের খাতায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ গুরুং। একাধিকবার তাঁকে খোঁজার চেষ্টা হলেও, পুলিশের হাতে ধরা দেননি এই দাপুটে নেতা। পরপর তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে ভিডিও ক্লিপিং, অডিও বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু প্রকাশ্যে জনসন্মুখে আসেননি। এই অবস্থায় খাস কলকাতার বুকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক বৈঠক করা এবং মুখ্যমন্ত্রীর গুণগান করা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড় তৈরি হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
জানা যাচ্ছে, আগামী বিধানসভা ভোটে পাহাড়ে বিজেপি নতুন জোটসঙ্গী পেয়েছে। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাকে সামনে রেখে পাহাড়ে নতুন রাজনৈতিক অক্ষ তৈরি করার চেষ্টা করছে বিজেপি।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *