খবর লাইভ : এবার লক্ষ্মীর ভান্ডার চেয়ে জনস্বার্থ মামলা হল হাইকোর্টে। ময়না বিধানসভার বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত বন্ধ লক্ষ্মীর ভান্ডার। জানা গিয়েছে, ৬ মাস বন্ধ এই পরিষেবা । লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন না সাত হাজারের বেশি উপভোক্তা। পাশাপাশি একাধিক পঞ্চায়েতেও টাকা না মেলার অভিযোগ। বাগচার স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সুনীতা মণ্ডল সাউ একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন।
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ব্লকের গোজিনা ও বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত বছরের শেষ দিক থেকেই এই দুই পঞ্চায়েত এলাকার বহু মহিলা অভিযোগ জানিয়ে আসছেন, তাঁরা দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে রাজ্য সরকারের এই আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন না।
অভিযোগ উঠেছে, গোজিনা ও বাকচা এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েত বর্তমানে বিজেপির দখলে থাকায় রাজনৈতিক কারণে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আটকে দেওয়া হচ্ছে। এই দাবিকে সামনে রেখে সম্প্রতি ময়না বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দেন স্থানীয় মহিলারা। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে সরকারি প্রকল্প থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার দাবি, বিষয়টি নিয়ে আগেই জেলা শাসক ও বিডিও-র কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, “প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও গত ছয় মাস ধরে এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না। অথচ অন্য পঞ্চায়েতগুলিতে নিয়মিত টাকা দেওয়া হচ্ছে।”
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি এবার গড়াল আদালতে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প বরাবরই ভোট রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত, তখন এই মামলাও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে—এই বার্তাকে নির্বাচনী প্রচারে হাতিয়ার করতে চাইছে তৃণমূল। অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেই রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলছে। ফলে ময়নার এই মামলা শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।




