Special News Special Reports

অভিষেকের মঞ্চে হাঁটা তিন ভূত ভোটারকে নিয়ে কড়া রিপোর্ট চাইল কমিশন

0
(0)

খবর লাইভ : দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে তৃণমূলের কর্মসূচিতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারুইপুরে একটি নির্বাচনী সভায় শুক্রবার তিনজন ব্যক্তিকে তুলে ধরে দাবি করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) খসড়া ভোটার তালিকায় তাদের ‘মৃত’ (ডেড) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অভিষেক বলেন, মনিরুল মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি ও মায়া দাস—তিন জনই জীবিত থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় মৃত হিসাবে নাম রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, শুধু এই তিনজন নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অদ্ভুতভাবে ২৪ জন ভোটারকে  মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং এটি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কৌশল।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নির্দেশে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা শাসক এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিক-কে দায়িত্বে প্রাপ্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ভুলটি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমিশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে প্রকাশিত খসড়া তালিকা এখনও চূড়ান্ত নয়। এতে ভুল থাকলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে এবং যারা মনে করেন তাঁদের নাম ভুলভাবে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে, তারা ফর্ম-৬ পূরণ করে আবারও নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি করতে পারবেন।

এই ঘটনার সঙ্গে এসআইআর-এর পরিচালনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ-প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটও জড়িত। তৃণমূল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই কমিশনের এসআইআর-প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলেছে।

বিধানসভা ভোটের লক্ষ্যে শুক্রবার থেকে জেলা সফর শুরু করছেন অভিষেক। প্রথম দিনই সভা ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। সেই সভায় র‌্যাম্পে ‘চমক’ দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। বক্তৃতার মাঝে তিনি তিন জনকে র‌্যাম্পে তোলেন। তাঁদের নিয়ে হাঁটেন অভিষেক। দাবি করেন, খসড়া তালিকায় তাঁরা সকলেই ‘মৃত’। ওই তিন ভোটার হলেন মনিরুল মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি এবং মায়া দাস। তাঁদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি মেটিয়াবুরুজ এবং এক জনের বাড়ি কাকদ্বীপে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর বর্তমানে রাজ্য জুড়ে চলছে শুনানিপর্ব।

প্রাক্তন বাম-মন্ত্রীকে শুনানিতে তলব প্রসঙ্গ
দিন দুয়েক আগে জানা যায়, সমস্ত রকম নথি বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) হাতে তুলে দেওয়ার পরেও শুনানির চিঠি পেয়েছেন বাম নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। কেন তাঁকে তলব করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ বার তা নিয়ে কমিশন জানাল, এ বিষয়ে ইআরও এবং বিএলও সঠিক ভাবে বলতে পারবেন। তবে শুনানি নিয়ে তাঁর (কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়) কোনও অভিযোগ থাকলে কমিশনকে জানাতে পারেন। অভিযোগ এলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *