খবর লাইভ : ফিনল্যান্ড সরকারের ঘোষণা, ২০২৬ সালের মধ্যে ইসলামাবাদ (পাকিস্তান), কাবুল (আফগানিস্তান) এবং ইয়াঙ্গন (মায়ানমার)-এ অবস্থিত দূতাবাস তারা বন্ধ করবে।
ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকারিতা এবং কৌশলগত কারণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। বন্ধের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ওই দেশগুলোর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ফিনল্যান্ডের সঙ্গে তারা বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিকভাবে খুব সীমিতভাবে যুক্ত।
এটি ওই দেশের কূটনীতিক উপস্থিতি পুনর্বিবেচনার অংশ। ফিনল্যান্ড বলেছে, বিদেশে তার মিশন-নেটওয়ার্ককে এমনভাবে সাজাতে চায় যাতে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভাবনা থাকে অর্থাৎ শুধুমাত্র যেসব দেশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এছাড়া, এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ফিনল্যান্ড আমেরিকায়, যার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক যুক্ত, সেখানে একটি নতুন কনসুলেট জেনারেল স্থাপন করেছে। একইসঙ্গে তারা এমন দেশগুলোয় ভৌগোলিকভাবে বা বাণিজ্যিক দিক থেকে নয়, যাদের সঙ্গে সম্পর্ক বেশি সেখানে কূটনৈতিক সম্পদ উৎসারিত করার পরিকল্পনা করছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব দেশ থেকে দূতাবাস সরানো হবে, সেগুলোর সঙ্গে ফিনল্যান্ডের অফিসিয়াল প্রতিনিধিত্ব, কনস্যুলার সেবা বা বাণিজ্য/কূটনৈতিক সম্পর্কের কাজ প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষ করে যাদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ সীমিত। তাদের ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ডের দূতাবাস বন্ধের অর্থ হল, ঐ দেশগুলোর সঙ্গে ফিনল্যান্ডের সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ কমে যাবে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল। দুই দেশ সেনা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল কিছু দিন আগেই। আফগানিস্তানে বোমা হামলা চালায় পাকিস্তান। কাবুল থেকেও পাক সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা চালানো হয়। একাধিক দেশের মধ্যস্থতায় আপাতত সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। তবে পারস্পরিক সম্পর্ক এখনও তলানিতে। পাকিস্তানের অন্দরে জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পরিস্থিতি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এ ছাড়া, মায়ানমারে ২০২১ সাল থেকে চলছে সেনাশাসন এবং গৃহযুদ্ধ। মনে করা হচ্ছে, এই পরিস্থিতি দেখে করে এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ বিবেচনা করেই ভারতের তিন প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিনল্যান্ড।




