খবর লাইভ : ইজরায়েলের ব্রিগেডিয়ার লেফটেন্যান্ট-জেনারেল ইয়েল জামির, যিনি বর্তমানে ইজরায়েলের ডিফেন্স ফোর্সের প্রধান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের দৃষ্টান্তমূলক ব্যর্থতায় দায়ী হিসেবে বেশ কিছু উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন।
তিনি ঘোষণা করেছেন, ওই দিনের ঘটনার পর সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড ও গোয়েন্দা ব্যবস্থাপনায় গুরুতর সিস্টেমেটিক ব্যর্থতা ছিল। জামির বলেন, আমাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল ইজরায়েলের অসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। আমরা সেই দায়িত্বে ব্যর্থ হয়েছি।
কী শাস্তি নেওয়া হলো?
কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলদের রিজার্ভ সার্ভিস থেকে সরানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন সেনা গোয়েন্দা প্রধান আহারন হালিভা, দক্ষিণ কমান্ডের প্রাক্তন প্রধান য়ারন ফিঙ্কেলম্যান এবং অপারেশন ডিরেক্টরেটের প্রাক্তন প্রধান ওদেদ বাসিউক।
কিছু কর্মকর্তা শুধুমাত্র শাস্তির নির্দেশ পেয়েছেন, কিন্তু পুরোপুরি বরখাস্ত করা হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, বিমান বাহিনী কমান্ডার মেজর জেনারেল টোমার বার এবং নৌবাহিনী কমান্ডার ডেভিড সালামা। গোয়েন্দা দলে থাকা বর্তমান প্রধান শ্লোমি বাইন্ডারকে কঠোরভাবে টোকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি তার দায়িত্ব ধরে রাখবেন।
জামিরের ব্যাখ্যা
জামির বলেন, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে অর্থাৎ তিনি নিজে তদন্ত কমিটি ও বিশ্লেষণীর সুপারিশ অনুযায়ী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার মতে, এই ধারার শাস্তি ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীলতা বাড়াতে ও পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
প্রতিবিধান ও নিরীক্ষণ
জামিরের এই পদক্ষেপ আসছে এমন এক সময়ে যখন একটি বিশেষ প্যানেল, সামি টুরজেমান কমিটি দ্বারা পরিচালিত, সাত অক্টোবরের ঘটনার গভীর তদন্ত করেছে। এই কমিটি বলেছে যে আগের তদন্ত অসম্পূর্ণ ছিল এবং আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ জরুরি।
প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকরা বলছেন, জামিরের এই পদক্ষেপ সেনাবাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী জবাবদিহি করার দিকে একটি স্পষ্ট সংকেত।অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক বলছেন, শুধু সেনাপ্রধানের সিদ্ধান্ত দিয়ে প্রশ্নের সব দৃষ্টিকোণ বিচার করতে পারবে কি না, তা দেখার বিষয়।
জামিরের এই সিদ্ধান্ত ইজরায়েলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যেখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত সেনা কাঠামোর ভিতর দায়িত্ব ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইজরায়েলের শহরে হামলা চালিয়েছিল হামাস। হামলায় নিহত হয়েছিলেন প্রায় ১১০০ জন। ২৫০ জন ইজরায়েলি নাগরিককে যুদ্ধবন্দিও করেছিল হামাস। ওই হামলা রুখতে না পারায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে একাধিক সেনাকর্তাকে বরখাস্ত করলেন ইজরায়েলি সেনাপ্রধান।




