খবর লাইভ : অনুপ্রবেশের কারণে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার রূপরেখা বদলে যাচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে নথি জমা দিল বিজেপি। ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম মুছে দেওয়ার দাবিও জানানো হয় বিজেপির তরফে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি-র এক প্রতিনিধি দল ডেপুটি চিফ ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ ভরতি এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে শুভেন্দু বলেন, “আমরা কমিশনকে জানিয়েছি কীভাবে তৃণমূল সরকারের সক্রিয় সহযোগিতায় অনুপ্রবেশকারীরা ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়েছে। বাংলার জনবিন্যাসের চিত্রটা গত কয়েক বছরে বদলে গেছে। ভোটার তালিকা থেকে এদের নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছি।”
বিজেপির জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, ২০০২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে ৮৪.১ শতাংশ। দাবি করা হয়েছে, মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ২০০২ সালের ২১.৩২ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬.৩৮ শতাংশে। বিজেপির বক্তব্য, ভোটার তালিকায় এই বৃদ্ধি ‘সংখ্যালঘু অনুপ্রবেশের’ ফল।
নথিতে আরও দাবি, ২০০২ সালে যেখানে ৬টি লোকসভা আসন সংখ্যালঘু-কেন্দ্রিক ছিল (যেখানে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি), ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০। একইভাবে ২০০২ সালে ৪৫টি বিধানসভা কেন্দ্র সংখ্যালঘু কেন্দ্রিক থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৬০।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিজেপি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া এবং হিন্দু শরণার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছে। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলির তিন জেলাশাসক BLOদের থেকে ওটিপি চেয়ে ভোটার তালিকায় বেআইনি সংযোজনের চেষ্টা করেছেন। এই তিন ডিএমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।




