খবর লাইভ : বুধবার থেকে টানা অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন নদিয়ার বাসিন্দা নিতাই মণ্ডল। রবিবার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁকে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুকে ব্যথা, শরীরে জলের অভাব (ডিহাইড্রেশন)-এর মতো উপসর্গ রয়েছে নিতাইয়ের। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দাদার অসুস্থতার খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ভাই প্রফুল্ল। রবিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠিক বুধবার থেকে ৪০ বছর বয়সী নিতাই মণ্ডল এসআইআর বিরোধী অবস্থানে অনশনে বসেন। এরপর তার ছোট ভাই প্রফুল্ল মণ্ডল অত্যাধিক উদ্বেগের কারণে শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় প্রফুল্লর শারীরিক অবস্থা মারাত্মক ছিল; তার বুকে ব্যথা ও শুষ্কতা ছিল, যা চিকিৎসকরা হৃদরোগে সংক্রমণের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেশীরা বলছেন, নিতাইয়ের দীর্ঘ অনশন ও দীর্ঘ সময় ধরে নির্জল থাকার পেছনে পরিবার-পরিজনের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও চাপ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে রাজনৈতিক উত্তেজনায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন যে, এসআইআর-র কারণে ভোটার তালিকা থেকে অনেক মানুষের নাম বাদ পড়বে। এই উদ্বেগই যেন শেষমেশ প্রফুল্লের মৃত্যুর আগুনে ঘি ঢালা হয়ে উঠল।
এ বিষয়ে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেছেন, “এসআইআর-র ভয়কে কেন্দ্র করে মানুষ মৃত্যুর মুখে পড়ছে। ভোটার তালিকা থেকে মোটা সংখ্যায় নাম বাদ পড়বে, ওরা (প্রতিপক্ষ) সেটাই চায়।“ তাঁর ভাষায়, এই হিংস্র পরিবেশ ও নির্বাচন পরিবেশে নিয়ন্ত্রিত নয়। বনগাঁর বিজেপি সাংসদ, ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুরের উদ্দেশে তোপ দাগেন তিনি। বলেন, “শান্তনু ঠাকুর ও কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে মতুয়ারা ধ্বংস হয়ে যাক। আর সেটাই কার্যকর করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন।’’ মমতাবালার বক্তব্য, এসআইআর কার্যকর হলে রাজ্যের প্রায় ২ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। যার মধ্যে ৯৫ শতাংশই মতুয়া হবেন বলে দাবি তাঁর।
স্থানীয় চিকিৎসক জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় অনশন ও দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে হঠাৎ করে হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যদি তাদের পূর্বে হৃদরোগের ইতিহাস থাকে অথবা ডিহাইড্রেশন হয়।
এদিকে এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসন বলেছে, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে হবে, স্বাস্থ্যর প্রতি উপেক্ষা করা চলবে না। মৃত প্রফুল্ল মণ্ডলকে সমবেদনা জানিয়ে এলাকার মানুষ বলছে, কারও যেন এমন দশা আর না হয়।




