National Special News Special Reports

ভুয়ো বিএআরসি বৈজ্ঞানিক গ্রেফতার হতেই পর্দাফাঁস, পরমাণু তথ্য পাচার করে কোটি কোটি টাকা!

0
(0)

খবর লাইভ :  গত সপ্তাহে মুম্বাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এক ভুয়ো বিজ্ঞানীকে, যিনি নিজেকে ভাবা এটমিক রিসার্চ সেন্টারের কর্মী বলে পরিচয় দিতেন। তদন্তে পাওয়া গেছে, ওই ব্যক্তি নিজেকে “আখতার হুসেইনি” নামে দেখিয়ে চলেছে, তার সঙ্গে আরও একজন ভাই নিয়ে দেশে পরমাণু-তথ্য সংগ্রহ ও পাচারে বছরের পর বছর ধরে যুক্ত ছিল।

গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ তার কাছ থেকে পাওয়া জিনিসের মধ্যে রয়েছে:
১০টিরও বেশি ম্যাপ ও নকশা, যেগুলো পরমাণু অস্ত্র ও পারমাণবিক চুল্লি-নকশার সঙ্গে যুক্ত।
ভুয়ো পাসপোর্ট, ভুয়ো আধার ও প্যান কার্ড, ভুয়ো BARC পরিচয়পত্র।
সন্দেহভাজন বিদেশি ফান্ড ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য।
বছরের পর বছর ধরে তথ্য ও অর্থের লেন-দেন

পুলিশের মতে, ১৯৯৫ সাল থেকে হুসেইনি ভাইদের কাছে বিদেশি ফান্ড প্রবাহিত হতে শুরু করেছে।
প্রথমদিকে এটি লাখ টাকায় হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোটি কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে—তিনি BARC-এর নকশা এবং পারমাণবিক চুল্লি-সংক্রান্ত তথ্য বিদেশে বিক্রয় করছিলেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে ঝাড়খণ্ডের পৈতৃক বাড়ি বিক্রি করেছে ওই দুই ভাই, আর সেই ঠিকানার ভিত্তিতে ভুয়ো পরিচয় তৈরির কাজ চালানো হয়েছিল।

পুলিশের চিহ্নিত-ফাঁদ ও আগাম নজরদারি
পুলিশ একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছে, যেখানে সন্দেহভাজন লেন-দেন হয়েছে—তদন্তকারীরা এখন পুরো মানি ট্রেইল ধরার চেষ্টা করছেন।
সন্দেহ করা হচ্ছে, ওই দুই ভাই হয়তো পাকিস্তানেও গিয়েছে এবং (ISI)-র সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে।

উদ্বেগ ও ভাবনা
এই ঘটনা শুধুই এক ব্যক্তি বা দুই ভাইয়ের অপরাধ নয়—এটি দেশের নিরাপত্তা, পরমাণু সংরক্ষণ ও তথ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা নীতির জন্য গম্ভীর সংকেত। এমন লুকায়িত নেটওয়ার্ক যা পরমাণু সংক্রান্ত তথ্য ও নকশা বিদেশে বিক্রয় করতে পারে, তা জাতীয় সুরক্ষার জন্য চ্যালেঞ্জ।

উদ্বেগের বিষয় হলো, একদল ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের কাজ চালিয়ে যেতে পেরেছেন। এটি নির্দেশ করে সামাজিক নজরদারি, তথ্যসিকিউরিটি ও গোয়েন্দা নজরদারিতে কিছু ফাঁক রয়েছে।

মুম্বই পুলিশের অ্যান্টি ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানিয়েছেন, ১৯৯৫ সাল থেকে হুসেইনি ভাইদের কাছে বিদেশি ফান্ড আসছে। ২০০০ পর্যন্ত লাখ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকেই হঠাৎ বেড়ে যায় ফান্ডের টাকা। পুলিশের দাবি, এতদিন ধরে কার্যত কোটি কোটি টাকা ফান্ড হিসেবে ঢুকেছে হুসেইনি ভাইদের কাছে। পুলিশ জানিয়েছে, BARC-এর কিছু ব্লু প্রিন্ট এবং কিছু পারমাণবিক চুল্লির নকশা পাচার করার বিনিময়ে এই টাকা দেওয়া হয়েছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *