খবর লাইভ : রাস্তার ধারে দোতলা বাড়ি। আর সেই দোতলা বাড়ির জানলায় বিপজ্জনক ভাবে দাঁড়িয়ে এক তরুণী। একদল পুরুষ তাঁকে ক্রেনের সাহায্যে নীচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। ছবিটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এক শহরের।
দোতলা বাড়িটি মহিলাদের জন্য নিবেদিত একটি ‘যত্ন-কেন্দ্র’ (কেয়ার সেন্টার) বা ‘দার আল-রিয়া’র। যেখানে ‘যত্নের’ ঠেলায় পালানোর চেষ্টা করছেন এক মহিলা! তেমনই একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ছবিকে ঘিরে হইচইও পড়েছে।
অভিযোগ, সৌদি আরবের কুখ্যাত সেই ‘যত্ন-কেন্দ্রে’ আটকে রাখা হয়েছে ওই মহিলাকে। যেখানে ‘অবাধ্য’, বিবাহ-বহির্ভূত যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া বা বাড়ির কাজে অমনোযোগী অন্য মহিলাদের সঙ্গে বন্দি রয়েছেন তিনি। সহ্য করতে হচ্ছে অকথ্য অত্যাচার। আর তাঁকে সেই ‘নরক-যন্ত্রণা’ ভোগ করতে পাঠিয়েছে তাঁরই পরিবার।
সৌদি আরবের মহিলাদের জন্য তৈরি সেই সব গোপন ‘যত্ন-কেন্দ্র’ বা ‘দার আল-রিয়া’গুলি আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘অবাধ্য’ মহিলাদের ‘পুনর্বাসন’ কেন্দ্র হিসাবে বর্ণনা করা হয় সৌদি আরবে। সম্প্রতি সমালোচনার মুখে পড়েছে সেগুলি।
বছরের পর বছর ধরে বন্দিদশা এবং ‘দার আল-রিয়া’ কর্তৃপক্ষের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অনেক মহিলাই সেখানে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার চেষ্টার নজিরও অনেক। পুরুষ অভিভাবক বা পরিবারের অনুমতি ছাড়া মহিলাদের সেখান থেকে বার হতে দেওয়া হয় না।
অভিযোগ করেছেন, যত্নের নামে মহিলাদের অত্যাচার করা হয় ‘দার আল-রিয়া’তে। প্রার্থনা না করার জন্য শাস্তি দেওয়া হয়। অন্য মহিলাদের সঙ্গে মেলামেশা করলে জোটে বেত্রাঘাত। নির্বাসনে থাকা সারা দাবি করেছেন, তাঁর নিজের বাবা ‘দার আল-রিয়া’কে হুমকি হিসাবে ব্যবহার করতেন।
সৌদির সমাজকর্মীদের দাবি, মূলত ৬০-এর দশকে তৈরি ‘যত্ন-কেন্দ্র’গুলি মহিলাদের নিয়ন্ত্রণ এবং শাস্তি দেওয়ার জন্য একটি অপ্রচলিত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সৌদির প্রশাসন। বিষয়টি সে দেশের নারী ক্ষমতায়নের জন্য করা প্রচারের সরাসরি বিরোধিতা বলেও দাবি করেছেন সমাজকর্মীদের একাংশ।




