খবর লাইভ : পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন এক সিআরপিএফ জওয়ান। তাঁকে ১৫ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানা হয়। বিভিন্ন সূত্র মারফত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, পহেলগাঁও কাণ্ডের ছ’দিন আগে অন্যত্র বদলি হয়ে যান তিনি।
পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত মতিরাম জাট সিআরপিএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। পহেলগাঁওয়ে বাহিনীর ১১৬ নম্বর ব্যাটেলিয়নে ছিলেন তিনি। তবে জঙ্গিহানার কিছু দিন আগে বদলি হয়ে যান। অভিযুক্ত ওই জওয়ানকে ইতিমধ্যে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করেছে আধাসেনা। জানা গিয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল পহেলগাঁও থেকে অন্যত্র বদলি করা হয় তাঁকে। ঘটনাচক্রে, মতিরামের বদলির কয়েক দিন পরেই ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় হামলা চালায় জঙ্গিরা। জঙ্গিদের হত্যালীলায় মৃত্যু হয় ২৬ জনের, যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন পর্যটক।
অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকেই নিরাপত্তা বিষয়ক বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাক গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দিতেন মতিরাম। এ জন্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা আধিকারিকদের থেকে মোটা অঙ্কের ‘পারিশ্রমিক’ও পেতেন তিনি। দিল্লি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত মতিরামের ১৫ দিনের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনাচক্রে, পহেলগাঁও কাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, “মতিরামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুধুমাত্র দেশের নিরাপত্তা জন্যই নয়, বরং ভারতে আসা বিদেশি পর্যটক এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তাতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। সশস্ত্রবাহিনী দেশের অন্যতম স্তম্ভ। তাদের বিরুদ্ধে এমন কাজ করার অর্থ দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। অবিলম্বে তদন্ত করে কড়া পদক্ষেপ করা উচিত।”
এনআইএ জানিয়েছে যে, মতিরাম জাট বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছিলেন।পাটিয়ালা হাউস বিশেষ আদালত ওই CRPF জওয়ানকে ৬ জুন পর্যন্ত এনআইএ হেফাজতে পাঠিয়েছে।
২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলার পর থেকে গত দুই সপ্তাহে পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশ থেকে ১৫ জনেরও বেশি লোককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে ভারতের প্রশাসন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, পাকিস্তান-সমর্থিত গুপ্তচর নেটওয়ার্ক উত্তর ভারতে ভীষণভাবেই সক্রিয়।




