খবর লাইভ : এরাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পিছনে হুগলির সিঙ্গুরের অবদান অনস্বীকার্য। যে সিঙ্গুরের মাটি ব্যবহার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক ভিত অনেকটাই মজবুত করেছিলেন, সেই সিঙ্গুরের মাটিই আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সৌজন্যে কিছু শাসক দলের নেতা ও মাটি মাফিয়া। বেআইনিভাবে সিঙ্গুরের বিভিন্ন জায়গায় মাটি কাটার ফলে অসহায় অবস্থা চাষীদের। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় সিঙ্গুরের বিঘাটি, পারালা মাঠ, ছুটি পুকুর এলাকার লোকজন মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সহ প্রশাসনের একাধিক জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছেন। এখন দেখার, ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গুরের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন কতটা সক্রিয় হয়।
ভদ্রেশ্বর থানার অন্তর্গত বিঘাটির সেঁকু পুকুর, পারালা মাঠে অবৈধভাবে মাটিকাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকার লোকজনের। যা নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবাদ করেছিলেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। বাধা দিলে ওই এলাকায় মাটি মাফিয়াদের চাঁই বলে পরিচিত বিঘাটির বাসিন্দা শুভেন্দু ঘোষ ওরফে বাবাই ও তাঁর দলবল তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ। মারধরও করা হয় ওই এলাকার লোকজনকে। ভয়ে কেউ ভদ্রেশ্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। তবে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সহ প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই অভিযোগ করেছেন।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বেআইনিভাবে মাটি কাটার ফলে একদিকে যেমন আশপাশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনই রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে। রাস্তায় মাটি পড়ে থাকার ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতের অন্ধকারে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাড়ির গবাদি পশু চুরি করা হচ্ছে। প্রশাসন জেনেও কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এই এলাকায় শুভেন্দু ওরফে বাবাই বেআইনি মাটি ব্যবসার সিন্ডিকেট চালান বলেও তাঁরা দাবি করেন। এবিষয়ে চন্দননগর কমিশনারেটের কমিশনার অমিত জাভালগিকে ফোন করা হলে তাঁকে অবশ্য ফোনে পাওয়া যায়নি। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, ‘যে সিঙ্গুরের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেছেন, সেখানেই আজ মানুষ অসহায়। রাজ্যবাসী দেখুক কোন রাজত্বে আমরা বাস করছি। আমরা বেআইনি মাটিকাটা বন্ধ করতে হাইকোর্টে মামলা করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মাটি মাফিয়া বাবাই অবশ্য হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সমস্ত নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। আমরা কাউকে হুমকি দিইনি।’
এখন দেখার সিঙ্গুরের মানুষকে রক্ষা করতে মুখ্যমন্ত্রী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন!




