খবর লাইভ : গত বছরই বর্ষায় হাওড়া, হুগলি জেলার নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলি বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল। ভয়াবহ বন্যায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হন এই দুই জেলার মানুষ। বর্ষার ফসল যেমন সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায় তেমনই গবাদি পশুসহ বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। বেআইনিভাবে বালি তোলাকেই বন্যার কারণ হিসেবে পরিবেশবিদরা মনে করেন। দামোদর, মুণ্ডেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর সহ বহু নদ-নদী থেকে বার বার বেআইনিভাবে বালি তোলার অভিযোগ উঠেছে। দিনের পর দিন বেআইনিভাবে বালি তোলার কারণেই প্রতিবছর বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় এই দুই জেলায়। মাঝে বন্ধ থাকলেও ফের দামোদর থেকে বেআইনিভাবে বালি তোলা শুরু হয়েছে।
হাওড়ার আমতা থানার বেতাইয়ে রমরমিয়ে রাতের অন্ধকারে তোলা হচ্ছে বেআইনিভাবে বালি। পুলিশ ও প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে এই কাজ করা হলেও স্থানীয় লোকজন অবশ্য এই বেআইনি কাজের জন্য শাসকদলের বেশ কয়েকজন নেতাকে দায়ী করেছেন। এলাকার লোকজনের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের একাংশের মদতে এই বেআইনি কাজ করা হচ্ছে। পুলিশ জেনেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছি।
বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, ‘আমাদের কাছেও স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানিয়েছেন। পুলিশ চাকরিহারা শিক্ষকদের লাঠিচার্জ করতে পারে, কিন্তু এই বেআইনি কাজ বন্ধ করতে পারে না। পুলিশ পদক্ষেপ না নিলে আমরা আদালতকে বিষয়টি জানাবো।’ তবে আমতা থানার ওসি মফিজুল আলম পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
নবান্নের এক আমলা বলেন, ‘এর আগেও আমতার মান্দারিয়া মোড়ের কাছে বেআইনিভাবে বালি তোলা হচ্ছিল। আমরা সেখানে পুলিশকে বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়েছিলাম। এখন তারই উল্টো দিকে বালি তুলছে বলে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।’
এখন দেখার পুলিশ আদৌ কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা! তবে পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয় লোকজন থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।




