খবর লাইভ : অপারেশন সিঁদুর-এর অংশ হিসেবে ভারতীয় বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাকিস্তানের একটি অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে স্বীকার করলেন প্রতিবেশী দেশের প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মকর্তা। পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল মাসুদ আখতার জানিয়েছেন, ইসলামাবাদের ভোলারী বিমানঘাঁটিতে থাকা একটি ‘সাব ২০০০ এরিআই’ অ্যাওয়াক্স বিমান ভারতের নিশানায় পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তথ্য অনুযায়ী, এই ‘অ্যাওয়াক্স’ বা ‘এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ বিমান মূলত শত্রুপক্ষের উপর নজরদারি চালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। সুইডেনে তৈরি এই বিমানগুলির রাডার দূরপাল্লার নজরদারিতে পারদর্শী। অপারেশন শুরুর আগে পাকিস্তানের হাতে এই ধরনের ৯টি বিমান ছিল।
আখতারের দাবি, ৯ মে গভীর রাতে ভারত একাধিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ভোলারী বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গারে আঘাত হানে। সেখানে রাখা ছিল একটি অ্যাওয়াক্স বিমান, যা হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়।
যদিও পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর)-এর তরফে এখনও পর্যন্ত ওই ক্ষয়ক্ষতির কথা সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়নি। আইএসপিআর কেবল ভারতীয় হামলায় সামরিক ও বেসামরিক প্রাণহানির কথা জানালেও, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষতির কথা এড়িয়ে গিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মাসুদ আখতার আরও বলেন, ভারতের ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রগুলি মাটি থেকে ছোড়া হয়েছিল, না কি আকাশ থেকে, তা নিয়ে নিশ্চিত নই। তবে পাকিস্তানি পাইলটরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। তবু একটি ক্ষেপণাস্ত্র হ্যাঙ্গারে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং বিমানটি ধ্বংস হয়।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান সুইডেন থেকে মোট ১০টি ‘সাব ২০০০ এরিআই’ কিনেছিল। ২০১২ সালে টিটিপি বিদ্রোহীদের হামলায় ইতিমধ্যেই তিনটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবার আরও একটি ক্ষতি হওয়ায় কার্যত পাকিস্তানের নজরদারি ক্ষমতায় বড় ধাক্কা লাগল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই হামলা বা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্রহ্মস ব্যবহারের বিষয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




