চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় : পাকিস্তানকে সমর্থন করে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে সিপিএমের বিরুদ্ধে সরব বিভিন্ন মহল।
সম্প্রতি পাকিস্তানকে সমর্থন করার অভিযোগে ভারতের অন্যতম বামপন্থী রাজনৈতিক দল সিপিএম-এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ উঠেছে। বিজেপি সহ একাধিক সংগঠন সিপিএমের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনেছে। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে তারা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি নির্বাচনী জনসভায় সিপিএমের এক নেতার মন্তব্য ঘিরে, যেখানে তিনি ভারতের নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে পাকিস্তানকে এক প্রকার ‘বিকল্প’ বা ‘সহনীয়’ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেন। এর পর থেকেই বিতর্কের আগুন ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে।
বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সিপিএম ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে ভারতের ভাবমূর্তিকে আঘাত করেছে এবং দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা সরাসরি দেশদ্রোহিতার সমান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয় সেই বক্তব্যের ভিডিও। এর পরেই বিভিন্ন রাজ্যে সিপিএমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হন বিরোধীরা।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এমন মন্তব্য দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানের পরিপন্থী। দেশ যখন জঙ্গি হামলার মোকাবিলায় সতর্ক এবং সীমান্তে সেনারা সজাগ, তখন একটি রাজনৈতিক দলের এই ধরনের অবস্থান জাতীয় স্বার্থে বিপজ্জনক।
সিপিএমের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, বক্তব্যের অংশ বিশেষকে বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে এবং তারা কখনোই দেশবিরোধী অবস্থান নেয়নি। তবে বিরোধীরা তাদের এই দাবিকে মানতে নারাজ।
দেশের ভেতরে যখন জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তখন এই বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যখন উত্তেজনা চরমে, তখন রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন করে আগুন জ্বালালেন সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার তাঁর এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেও ভারত পাকিস্তানে জল সরবরাহ বন্ধ করে, অথচ আদানিরা ব্যবসা চালিয়ে যায়। এটা কী ধরনের দ্বিচারিতা?
এই মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ঝড় ওঠে। তন্ময়বাবুর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবং অন্যান্য জাতীয়তাবাদী দলগুলি তাঁর বিরুদ্ধে দেশবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তোলে।
বিজেপির বক্তব্য, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে একটি জাতীয় দল ভারতের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করছে এবং পাকিস্তানকে জল দেওয়ার পক্ষপাত করছে। যখন আমাদের সেনারা সীমান্তে প্রাণ বাজি রেখে লড়ছে তখন সিপিএমের এই অবস্থান দেশবিরোধী।
তন্ময় ভট্টাচার্য অবশ্য তাঁর মন্তব্যের পিছনে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘আমি শুধুমাত্র সরকারের নীতির দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি। যদি পাকিস্তান শত্রু রাষ্ট্র হয়, তাহলে শুধু জলের সরবরাহ কেন বন্ধ? ভারতের কর্পোরেট সংস্থাগুলি কীভাবে তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখছে?’ তিনি আরও জানান, দেশের স্বার্থে সমন্বয়ের নীতি প্রয়োজন আছে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক হাওয়া বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য আরও একবার প্রমাণ করল যে কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখা ভারতের মতো দেশের জন্য কতটা জটিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল বিষয়ে এমন প্রকাশ্য মন্তব্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি রাখে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
অনেকেই সিপিএমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছেন।




