খবর লাইভ : কাশ্মীর নিয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ভারত কখনওই মেনে নেবে না। এই বার্তা ফের একবার জোর গলায় তুলে ধরেছে ভারত সরকার। পাকিস্তানের ধারাবাহিক হামলা ও সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পাল্টা জবাবের আবহেই আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি একগুচ্ছ বার্তা পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি।
সরাসরি বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে কোনও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই। একমাত্র আলোচনা হতে পারে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত নিয়ে। সেটাও হবে শুধুমাত্র পাকিস্তানের সঙ্গে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন। তার মতে, ভারত-পাকিস্তানের উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করতে একটি ‘তৃতীয় পক্ষের’ উদ্যোগ জরুরি। তবে ভারত তার জবাবে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, কোনও মধ্যস্থতার দরকার নেই। কাশ্মীর সম্পূর্ণভাবে ভারতের অংশ এবং সেখানে কোনও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চলবে না।
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ভারত কাশ্মীরকে সম্পূর্ণভাবে সংবিধানিকভাবে সংযুক্ত করেছে। এখন ভারতের লক্ষ্য একটাই, পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে ফেরত আনা।
সরকারি সূত্র বলছে, ভারত এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, উপসাগরীয় দেশগুলি এবং জাতিসংঘকেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে এটি একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়। কেউ এতে হস্তক্ষেপ করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে ভারত বিশ্বের সামনে আরও একবার নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে। পাকিস্তানকে সরাসরি জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসের জবাব হবে চূড়ান্ত প্রতিশোধ। ভারত যে কোনও মূল্যে জাতীয় নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার প্রশ্নে আপোষ করবে না।
বিদেশ মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ এক কর্তার কথায়, আমরা কারও কাছ থেকে উপদেশ নয়, সম্মান চাই। কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের অবস্থান আজও যতটা স্পষ্ট ছিল, ততটাই অনড় আছে।
এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের আত্মবিশ্বাস এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় সংকল্পেরই প্রতিফলন বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।




