খবর লাইভ : তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কি এবার শেষের পথে? সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষবিরতির পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আশার আলো দেখা যাচ্ছে ইউক্রেন নিয়েও। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
আসছে ১৫ মে তুরস্কের ইস্তানবুলে এই আলোচনার আয়োজন করতে চান তিনি। শনিবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে পুতিন জানান, রাশিয়া এই যুদ্ধের মূল কারণগুলি দূর করে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপনে আগ্রহী।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ইতিমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণ কেড়েছে, ধ্বংস করেছে শহর-জনপদ। শিশু-নারী সহ অসংখ্য নিরীহ নাগরিক এই সংঘাতের বলি হয়েছেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বারবার শান্তি প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে মূলত দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনমনীয় অবস্থানের কারণে।
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় কিয়েভকে সমর্থনের অভিযোগ তুলেছিল মস্কো। তবে এখন হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি রুশনীতিতে এনেছেন নাটকীয় পরিবর্তন। ইউক্রেনের প্রতি কড়া অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি তিনি যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে সরব হলেও এখনও কার্যকর কোনো সমঝোতা আনতে পারেননি।
রাশিয়া বিশ্বাস করে, বর্তমান ইউক্রেন সরকার অর্থাৎ ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বে দেশটি পশ্চিমা দুনিয়ার প্রভাবের অতিরিক্ত অনুসারী হয়ে উঠেছে। এক সময়ের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের সময় যেভাবে মস্কো ও কিয়েভের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল, তা আজ কেবল অতীত।
তবে পুতিনের নতুন প্রস্তাব যুদ্ধ পরিস্থিতিকে মোড় ঘোরাতে পারে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ইউক্রেন কী এই আলোচনায় সম্মত হবে? বিশ্ব এখন তাকিয়ে রয়েছে ১৫ মে’র দিকে।




