খবর লাইভ : গত ১৮ এপ্রিল দিলীপ ঘোষের জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে—দাম্পত্য জীবনের। দীর্ঘদিনের একক রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর অবশেষে তিনি জীবনসঙ্গিনী পেয়েছেন রিঙ্কু মজুমদারকে। ঘর-সংসার সামলানোর পাশাপাশি এখন রিঙ্কু দিলীপের রাজনৈতিক সফরেও একপ্রকার সঙ্গী হয়ে উঠেছেন। তবে এই নতুন পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপির অন্দরমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
দিলীপ ঘোষ যদিও দাবি করছেন, “আমার জীবনে কোনও পরিবর্তন আসেনি। সুবিধা বা অসুবিধা কিছুই হয়নি। আমি একাই লড়াই করতে অভ্যস্ত।” তবে বাস্তবের ঘটনাপ্রবাহ বলছে ভিন্ন কথা। বিশেষত, সম্প্রতি কোলাঘাটে এক চা-চক্রে অংশ নিতে গিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মুখে পড়তে হয় দিলীপকে, যেখানে রিঙ্কুর ভূমিকা নজর কেড়েছে অনেকের।
দলীয় কর্মসূচিতে জেলা নেতৃত্বের অনুমতি না নিয়েই দিলীপের উপস্থিতি ঘিরে প্রতিবাদ জানায় স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। সেই বিক্ষোভ সামাল দিতে এগিয়ে যান রিঙ্কু নিজে। তার ভঙ্গিমা ছিল নেতৃত্বদানের মতো, কিন্তু কর্মীদের একাংশ তাঁর হস্তক্ষেপ মেনে নিতে চাননি। বরং তারা বুঝিয়ে দেন, রিঙ্কুর সেই পরিস্থিতিতে ভূমিকা গ্রহণ একপ্রকার অপ্রাসঙ্গিক।
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, রিঙ্কুর রাজনৈতিক পরিচয় ও তার বর্তমান ভূমিকাকে ঘিরে। যদিও রিঙ্কু বলছেন, তিনি বহু বছর ধরেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত, তবে দলের অনেক নেতাই জানাচ্ছেন, রিঙ্কু মূলত মহিলা মোর্চার এক জেলা সেলের ইনচার্জ, তাও তমলুক নয়, দক্ষিণ কলকাতা সংগঠনভুক্ত একটি অংশের।
এক রাজ্য কমিটির সদস্য বলেন, “নেতার স্ত্রী হয়ে রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করা কিংবা সক্রিয় হস্তক্ষেপ করা কংগ্রেসি ধারা হতে পারে, বিজেপিতে এমনটা আগে দেখা যায়নি।” আবার অন্যদিকে রিঙ্কু নিজে বলেন, “স্বামীর প্রতি আক্রমণ হলে আমি নিশ্চুপ থাকব না। আমি একজন কর্মী হিসেবেও প্রতিবাদ করার অধিকার রাখি।”
দিলীপ ঘোষও এই প্রসঙ্গে স্ত্রী রিঙ্কুর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “একজন ভারতীয় নারীর কাছে তার পরিবারই আগে। রাজনৈতিক দায়িত্ব থাকলেও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোটা গুরুত্বপূর্ণ।”
এই ঘটনার পর বিজেপির অন্দরমহলে রিঙ্কুর রাজনৈতিক ভূমিকা, তার সীমারেখা এবং তা থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই নবদম্পতির সমীকরণ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।




