খবর লাইভ : এ যেন সাক্ষাৎ বরকত গনি খান চৌধুরী। প্রয়াত কংগ্রেস সাংসদ গনি খান এক সময় এলাকার লোকজনকে সাহায্য করার জন্য নিজের সমস্ত কিছু দান করতেন। কেউ অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়লে তিনি যেমন হাত বাড়িয়ে দিতেন তেমনই আবার কেউ যে কোনও বিপদে পড়লে তাঁকে রক্ষা করার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মতো ঝাঁপিয়ে পড়তেন। তাই তো আজও মালদহের মানুষের কাছে সাক্ষাৎ ভগবান হিসেবে বিরাজ করেন গনিবাবু। সিপিএম জমানাতেও কেউ টলাতে পারেনি তাঁকে। আবার তৃণমূল জমানাতেও প্রয়াত কংগ্রেস সাংসদের সাম্রাজ্য অটুট।
অতীতকে ভুলে যাননি সেই জেলার মানুষ। তেমনই এক চরিত্র হুগলির খানাকুলের বাসিন্দা শেখ সাকিম। গনি খান চৌধুরীর মতোই এই যুব তৃণমূল নেতার গ্রহণযোগ্যতা তাঁর এলাকায়। খানাকুল এবং পুরশুড়া এই দুটো জায়গাতেই অবাধ সাকিম। এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়ক বিজেপির হলেও জনসেবা করার কাজই সাকিমের ধারেকাছে কেউ নেই বললে চলে। নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে দীর্ঘদিন ধরেই জনগণের সেবা করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই শাসক তৃণমূলের একাধিক নেতা নিজেদের আখের গোছাতে একের পর এক বেআইনি কাজ ও দুর্নীতি করেই চলেছেন। সে কারণে এলাকার লোকজনের কাছে তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা কমলেও সাকিমের মানবিক দৃষ্টিতে অনেকেই ফের ঘাসফুলের দিকে ফিরে আসছেন।
সম্প্রতি খানাকুল বিধানসভার বেশ কিছু জায়গায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের যোগ দিয়েছেন পদ্ম শিবিরের বহু কর্মী। শুধুমাত্র সাকিমের জনসেবামূলক কাজের নিরিখেই যে তাঁরা অন্য দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তা স্বীকার করে নিয়েছেন। প্রদীপ মাইতি নামে এক বিজেপি কর্মী বলেন, ‘আমিও আগে বিজেপি করতাম সম্প্রতি তৃণমূলে নাম লিখিয়েছি সাকিমদার মহৎ উদ্দেশ্যের জন্য। বিপদে যিনি পাশে থাকেন তাঁর সঙ্গেই তো সকলের থাকা উচিত!’
সাকিম অবশ্য এতকিছু ভাবতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘যতদিন বাঁচবো মানুষের সেবা করে যাব। আমরা রামমোহন রায়ের আদর্শে চলতে অভ্যস্ত। উনি যদি মানুষের সেবা করেছিলেন দীর্ঘ সময় ধরে। আমরা কেন করব না!’




