Special News Special Reports State

‘ইন্ডিয়া’কে ভয়, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে দুর্নীতির ১০ পয়সা ঢুকেছে প্রমাণ করুন: ইডিকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

0
(0)

খবর লাইভ : টানা সাড়ে ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ। সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, “লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে নিয়োগ দুর্নীতির দশ পয়সা ঢুকেছে প্রমাণ করে দেখান। আমি চ্যালেঞ্জ করছি।”

বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। যখন বেরোন তখন ঘড়ির কাঁটা নটা ছুঁয়েছে। বেরিয়ে বৃষ্টির মধ্যে হাসিমুখে অভিষেক বলেন, আগে শূন্য ছিল, আজ -২। দফতরের সামনে দাঁড়িয়েই ইডিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন অভিষেক। তাঁর কথায়, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে ১০ পয়সা দুর্নীতি থাকলে তা প্রমাণ করতে হবে আর প্রমাণ করতে গেলে ট্রায়াল শুরু করতে হবে। এরপরেই অভিষেক বলেন ইডি-সিবিআইয়ের হাতে যে মামলা গিয়েছে তা বছরের পর বছর চলছে। অথচ এখনও ট্রায়াল শুরু হয়নি। উদাহরণস্বরূপ সারদা মামলার কথা তোলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ৯ বছরে সেই মামলার ট্রায়াল শুরু করতে পারিনি সিবিআই। “পার্থ চট্টোপাধ্যায় এতদিন গ্রেফতার হয়েছেন, কি হয়েছে? সারদা, নারদ তদন্তে এতো বছর ধরে তদন্ত চলছে, কি অগ্রগতি হয়েছে?” প্রশ্ন তোলেন অভিষেক।

এরপরেই তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূলে সর্বভারতির সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আগামিকাল মামলার শুনানি আছে, আমার চ্যালেঞ্জ ইডিকে। আগামিকাল আপনারা আমার স্টেটমেন্ট জমা দিন।”

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, “আমার দলের যাঁরা নারদ কেলেঙ্কারিতে জড়িত তাদের সবার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হোক। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীকে দিয়ে শুরু হোক।” তাঁর কথায়, “আমি তৃণমূল করি বলে আমার জন্য আইন আলাদা আর কেউ বিজেপিতে গেলে তাঁর জন্য নিয়ম আলাদা হতে পেতে না। তদন্তকারী সংস্থা নিরপেক্ষ তখনই বলব, যখন টিভির পর্দায় যাকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে, তাঁকে গ্রেফতার করবে”। সাংবাদিকদের সাবধানে বাড়ি ফিরতে বলে হাসিমুখে ইডির দফতর ছাড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার ছিল ইন্ডিয়া জোটের সমন্বয় কমিটির প্রথম বৈঠক। তার সদস্য হিসেবে এদিন যোগ দেওয়ার কথা ছিল  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু হঠাৎই ইডির তলবে বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি তিনি। বুধবার নটায় সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ করলেন অভিষেক। পাশাপাশি, তাঁর প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে বৈঠকে আসন ফাঁকা রাখার জন্য জোটের অন্যান্য নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিষেক।

“তৃণমূলকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি। বারবার তৃণমূলকেই নিশানা করা হচ্ছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অন্যদের বিরুদ্ধে তো হচ্ছে না!” সাড়ে 9 ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পরে তোপ দাগেন অভিষেক। বলেন, “অন্যদিন ডাকতে পারত। তাহলে বৈঠকে যোগ দিতে পারতাম।” কেন্দ্রের প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনায় ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিষেক।

অভিষেকের দাবি, ইন্ডিয়া জোটে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় বারবার তৃণমূলকে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি বেছে বেছে তৃণমূলকে ডেকেছে। ইন্ডিয়া জোটের গঠনে তৃণমূলের ভূমিকা কী এটা আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল। বিরোধী জোটের এতদলের মধ্যে কাকে আটকানো হল? কার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হল? তৃণমূল। কই আর কাউকে তো আটকানো হচ্ছে না?” একই সঙ্গে বলেন, “কাউকে ছোট করছি না। যাঁরা আজ বৈঠকে ছিলেন তাঁদের সকলকে নতমস্তকে প্রণাম।”

তৃণমূলে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, “মানুষের কাছে ছেড়ে দিচ্ছি। যারা রাজনৈতিক ভাবে লড়াই না করতে পেরে মানুষের স্বার্থে কাজ করা ইন্ডিয়া জোটকে বাধা দিচ্ছে, তাদের জবাব যেন মানুষ দেয়।”

 

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *