games Special News Special Reports

সূর্যের দাপটে ছারখার অস্ট্রেলিয়া, সিরিজ ভারতের

0
(0)

খবর লাইভ : নিজামের শহরে সূর্যোদয়। সূর্যকুমারের ব্যাটে ভর করে রবিবার হায়দরাবাদে তৃতীয় টি-২০ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ২-১ এ সিরিজ জিতল ভারত। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। শেষ মিনিট পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। এক বল বাকি থাকতে সিরিজ পকেটে পুরে নেন রোহিতরা। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ১৮৬ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য ২১ রান প্রয়োজন ছিল ভারতের। ক্রিজে বিরাট এবং হার্দিক। ১৯তম ওভারে ১০ রান দেন কামিন্স। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১১। স্যামসের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে জয় প্রায় নিশ্চিত করেন কোহলি। কিন্তু আরও নাটক বাকি ছিল। দ্বিতীয় বলে আউট বিরাট। ম্যাচের মোড় কি ঘুরে যাবে? এই প্রশ্ন যখন সবার মনে, ঠিক তখনই বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। শেষ দুই বলে চার রান দরকার ছিল। স্যামসের অফস্টাম্পের বাইরে বলে কোনওক্রমে ব্যাট ছোঁয়াতে সক্ষম হন ফিনিশার হার্দিক। ঘরের মাঠে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে টিম ইন্ডিয়ার জয়ের রেকর্ড একশো শতাংশ । আরেকজনের নাম না করলেই নয়। তিনি বিরাট কোহলি। ৪৮ বলে ৬৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।

আরও পড়ুনঃ রবিবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নেমে অনন্য নজির গড়লেন বিরাট, সামনে এবার সচিন

টসে জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাট করতে পাঠান রোহিত শর্মা। শুরুটা দারুণ করে অজিরা। প্রথম বল থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে দেখা যায় ক্যামেরন গ্রীনকে।
একের পর এক ছক্কা এবং চার হাঁকাতে থাকেন। মাত্র ১৯ বলে পৌঁছে যান অর্ধশতরানে। উইকেটের অন্য প্রান্তে ব্যর্থ অ্যারন ফিঞ্চ। ৭ রানে ফিরে যান অজি অধিনায়ক। ৩.৩ ওভারে ৪৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ২১ বলে ৫২ রান করে আউট হন গ্রীন। তারমধ্যে ছিল ৩টি ছয় এবং ৭টি চার। পরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৬) এবং স্টিভ স্মিথকে (৯) প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরে ভারত।

দ্রুত উইকেট হারানোয় অজিদের রানের গতি মন্থর হয়ে যায়। মাঝের ওভারগুলোতে ম্যাচের রাশ ভারতের হাতে ছিল। পুরো সিরিজেই দারুণ ফর্মে অক্ষর প্যাটেল। এদিন ৩৩ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন। তারমধ্যে রয়েছে ম্যাথিউ ওয়েডের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। সিরিজের প্রথম দুটো ম্যাচে দুরন্ত ছন্দে থাকা অজি উইকেটকিপার ব্যাটারকে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দেন অক্ষর। একটা সময় ১১৭ রানে ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এই জায়গা থেকে দলকে টেনে তোলেন টিম ডেভিড এবং ড্যানিয়েল স্যামস। সপ্তম উইকেটে ৬৮ রান যোগ করে এই জুটি। শেষ পাঁচ ওভারে ৬৩ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। ২৭ বলে ৫৪ রান করেন টিম ডেভিড। ২৮ রানে অপরাজিত থাকেন স্যামস।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে এদিন শুরুতেই ওপেনারদের হারায় টিম ইন্ডিয়া। প্রথম ওভারের শেষ বলে মাত্র ১ রানে আউট হন কেএল রাহুল। পাঁচ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত।
বেশিক্ষণ উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি রোহিতও। ছয় মেরে রানের খাতা খুললেও ১৭ রানে ফিরে যান ভারতের নেতা। ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ৪ ওভারের মধ্যে দুই ওপেনার আউট। এই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ ছিল না। কিন্তু সেটাকে অতি সহজ করে দেন সুর্যকুমার যাদব। অনবদ্য ব্যাটিং। টি-২০ ক্রিকেটে অন্যতম সেরা ইনিংস সূর্যের। বলে বলে ছক্কা হাঁকান। উইকেটের চারিদিকে শট খেলেন।

সূর্যের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল হায়দরাবাদের মাঠটা বোধহয় ছোট। অনায়াসে একের পর এক চোখ ধাঁধানো শট খেলেন। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং নিয়ে ছেলেখেলা করেন। কামিন্স, হ্যাজেলউড, স্যামসদের দেখে মনে হচ্ছিল পাড়ার ক্রিকেটে বল করছেন। কেরিয়ারের সেরা ফর্মে ভারতীয় ব্যাটার।‌‌ ২৯ বলে অর্ধশতরান সম্পূর্ণ করেন সূর্য। কোনও বোলারকেই রেয়াত করেননি। ৩৬ বলে ৬৯ রান করে বাউন্ডারিতে ফিঞ্চের হাতে ধরা পড়েন। ঝকঝকে ইনিংস সাজান ৫টি ছয় এবং ৫টি চারে। আউট হলেও ততক্ষণে ভারতকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন। তৃতীয় উইকেটে ১০৪ রান যোগ করে বিরাট-সূর্যকুমার জুটি। বাকি কাজটা সারেন কোহলি এবং হার্দিক। ৩৭ বলে অর্ধশতরানে পৌঁছে যান প্রাক্তন নেতা। শুরুটা মেজাজে করলেও উল্টোদিকে সূর্যের বিস্ফোরক ব্যাটিং দেখে নিজেকে সংযত করে নেন কোহলি। জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিলেও উইনিং স্ট্রোক নেওয়া হয়নি বিরাটের। সেই কাজটা করেন হার্দিক। ১৬ বলে ২৫ রানে অপরাজিত পাণ্ডিয়া।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *