খবর লাইভ : বিজেপির নবান্ন অভিযান ঘিরে সকাল থেকেই সরগরম গোটা রাজ্য। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে BJP কর্মী-সমর্থকেরা মিছিল করে কলকাতার (Kolkata) দিকে রওনা দিয়েছেন। কিন্তু সকালেই বাঁকুড়া (Bankura) থেকে ঝাড়গ্রাম (Jhargram), দুর্গাপুর (Durgapur), কাঁথি (Kanthi)- সর্বত্রই পুলিশের বিরুদ্ধে BJP কর্মী-সমর্থকদের নবান্ন অভিযানের উদ্দেশ্যে আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। বাঁকুড়ায় সোনামুখী পুলিশ মিছিল করে আসা ২৫ জন BJP কর্মীকে আটকও করে।
বাঁকুড়া (Bankura) থেকে ঝাড়গ্রাম (Jhargram)- সর্বত্রই পুলিশের বিরুদ্ধে BJP কর্মী-সমর্থকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। বাঁকুড়ায় সোনামুখী পুলিশ মিছিল করে আসা ২৫ জন বিজেপি কর্মীকে আটকও করে। যার জেরে সকালেই উত্তেজনা ছড়ায় সোনামুখীতে। পুলিশের এই আচরণে তীব্র কটাক্ষ করে রাজ্য BJP সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) বলেন, “ভয় পেয়েছেন মমতা।” একইভাবে দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) কটাক্ষ, “এত ভয় পাওয়ার কী আছে!”
এদিন ভোরে সোনামুখী বিধানসভার বিধায়ক (Sonamukhi MLA) দিবাকর ঘরামির নেতৃত্বে BJP কর্মীরা নবান্ন অভিযানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু সোনামুখী স্টেশনে ঢোকার আগেই সোনামুখী থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী তাঁদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ২৫ জন BJP কর্মীকে আটক করে সোনামুখী থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তার প্রতিবাদে বিধায়কের নেতৃত্বেই সোনামুখী থানায় বিক্ষোভ দেখান BJP কর্মীরা। বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর পুলশ প্রত্যেককে ব্যক্তিগত বন্ডে ছেড়ে দেয় বলে জানা যাচ্ছে।
সোমবার রাতেই BJP কর্মী-সমর্থকদের আটক করার অভিযোগ উঠেছে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। BJP-র বাঁকুড়া জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মণ্ডলের অভিযোগ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে BJP কর্মী-সমর্থকরা ট্রেন ধরার জন্য বাঁকুড়া আসার পথে বিভিন্ন থানা এলাকায় এলে তাদের আটক করে পুলিশ। বাঁকুড়া স্টেশন থেকে চারজনকে আটক করে বাঁকুড়া সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। স্টেশন চত্বরও পুলিশ ঘিরে ফেলে। তারপর শয়ে-শয়ে BJP কর্মীরা পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে রাত প্রায় দুটো নাগাদ স্পেশ্যাল ট্রেনে চেপে হাওড়ার উদ্দশ্যে রওনা দেয়। বাঁকুড়ার মতো ঝাড়গ্রামেও BJP কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঝাড়গ্রাম শহরে ঢোকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, যেমন লোধাশুলি হয়ে ঝাড়গ্রাম দহিজুরি হয়ে ঝাড়গ্রাম, জামবনি হয়ে ঝাড়গ্রাম প্রতিটি রাস্তায় পুলিশের ব্যারিকেড রয়েছে। বাস, অটো, পণ্যবাহী গাড়ি সবকিছু তল্লাশি করে পুলিশ দেখছে, গাড়ির ভিতর বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা রয়েছে কিনা। পুলিশ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের তাদের এলাকায় আটকে দিচ্ছে, এমনকি অভিযোগ, বেশ কিছু জায়গায় BJP কর্মী-সমর্থকদের গাড়ি রেল স্টেশনে আসার পথে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
আবার পুলিশের ভয়ে দুর্গাপুর স্টেশন (Durgapur Station) চত্বরে BJP কর্মীরা লুকিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। এদিন সকালে পানাগড় (Panagarh) স্টেশন থেকে কাঁকসা ব্লকের বহু BJP কর্মী-সমর্থককে কলকাতার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিতে দেখা যায়। যদিও সকাল থেকে যাতে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তাই পানাগড়ের বিভিন্ন মোড়ে মোতায়েন ছিলেন কাঁকসা থানার পুলিশকর্মীরা সহ কাঁকসার ACP। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক কাঁথিতে (Kanthi) BJP কর্মীদের স্টেশনে যাওয়ার সময় পুলিশ ব্যারিকেড করে রাস্তা ঘিরে রাখে বলে অভিযোগ। পরে BJP কর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে স্টেশনে যায়। আবার পটাশপুরে BJP কর্মীদের বাস আটকানোর অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে।
দলের’নবান্ন অভিযানে’ যাওয়ার পথে কর্মী-সমর্থকদের পুলিশের ‘আটক’ করছে অভিযোগে সরব হয়েছেন সোনামুখীর বিধায়ক দিবাকর ঘরামি। সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “সরকার কত নীচে নেমে গিছে এভাবে গণতন্ত্রকে রাখা যায় না।” আজ ‘ঐতিহাসিক নবান্ন অভিযান’ হবে বলেও দাবি জানান তিনি।
সাত সকালেই জেলা জেলা থেকে এসে পৌঁছচ্ছে বিজেপি কর্মীরা। হাওড়ায় সকালেই এসেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে দিকে দিকে বিজেপি কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ, তার মধ্যেই যাঁরা হাওড়া এসে পৌঁছেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানালেন সুকান্ত। বললেন, ‘ চারিদিকে পুলিশ দিয়ে রুখে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ সরকার বিজেপির ভয়ে থরহরি কম্প। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পেয়েছেন। তাই বিজেপির নবান্ন অভিযান আটকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। … লড়াই হবে লড়াই ! ‘
উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ, বিভিন্ন জায়গায় এই পরিস্থিতির ছবি সামনে এসেছে। রানিগঞ্জে এনিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়াল। গ্রেফতার করা হয় পাঁচ বিজেপি কর্মীকে।
নবান্ন অভিযান আটকাতে কাঁথি স্টেশনে মোতায়েন প্রচুর পুলিশ। পুলিশি বাধা টপকেই কাঁথি স্টেশন থেকে রওনা দিলেন বিজেপি কর্মীরা। নন্দীগ্রামের ক্ষুদিরাম মোড়ে বিজেপির মিছিল ঘিরে উত্তেজনা। বিজেপির মিছিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।তমলুক টোল প্লাজার সামনেও বিজেপির মিছিল রুখে দেয় পুলিশ।
ডানকুনিতে কলকাতা ও হাওড়ামুখী রাস্তায় তীব্র যানজট। বিজেপির অভিযোগ, নবান্ন অভিযান আটকাতেই যানজট তৈরি করছে পুলিশ। যদিও পুলিশের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় মোতায়েন করা অতিরিক্ত বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স।
আরপিএফ, রেল পুলিশ আছে। তাও রেল স্টেশনে ঢুকে যাচ্ছে রাজ্য পুলিশ। অধিকারের সীমারেখাটাই বুঝতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী, কটাক্ষ দিলীপের।
নবান্ন অভিযানে যাওয়ার আগে বোলপুর স্টেশনে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা। স্টেশন চত্বর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করায় বোলপুর স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা।
‘পুলিশ তুমি যতই ধরো ট্রেনে করে নবান্ন যাব’ -এই স্লোগান দিয়ে কাটোয়া থেকে লোকাল ট্রেনে চড়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিলেন বিজেপি কর্মী, সর্মথকরা। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের বাধা এড়াতে কৌশলী ভূমিকা নেন তাঁরা। গ্রাম থেকে স্বাভাবিকভাবে স্টেশনে এসে পতাকা হাতে নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা।
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…