খবর লাইভ : বাগুইআটির দুই কিশোর খুনের ঘটনায় এবার রাজনীতির ছোঁয়া! মঙ্গলবার রাতেই নিহত কিশোর অতনু দেবের বাড়িতে যান BJP-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু অতনুর বাড়ি এলাকায় ঢুকতেই তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। কিশোর মৃত্যুর ঘটনায় কোনও রাজনীতি চান না দাবি জানিয়ে BJP সভাপতিকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। ফলে এলাকায় গিয়েও অতনুর বাড়িতে ঢুকতে পারলেন না তিনি। প্রবল বাধার মুখে বাড়ির সামনে থেকেই ফিরে আসেন সুকান্ত মজুমদার। তবে নিহত কিশোরের বাড়িতে যান শিশু সুরক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি সুদেষ্ণা রায়। রাতে বিধায়ক-গায়িকা অদিতি মুন্সিও অতনুর বাড়িতে আসেন।
আরও পড়ুনঃ সরকারি কর্মীদের কোনও মহার্ঘভাতা বকেয়া নেই হলফনামা দিয়ে হাইকোর্টে জানাল রাজ্য সরকার
এদিন রাত সাড়ে ৮ নাগাদ অতনু দেবের বাড়িতে যান BJP-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কিন্তু তাঁরা অতনুর বাড়ির কাছে পৌঁছতেই এলাকাবাসীর তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন। এই ঘটনায় রাজনীতি চান না দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া অতনুর মা অসুস্থ। BJP সভাপতি বাড়িতে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে আরও অসুস্থ হতে পারেন বলে জানান এলাকাবাসী। তাঁদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে BJP সভাপতি ফিরে যান। যাওয়ার আগে BJP সভাপতি বলে যান, আমি ফিরে যাচ্ছি। আর আসব না। আমরা পুলিশের সঙ্গেই কথা বলব।
এদিকে, দুই কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে টুইট করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধাননগর পুলিশকে বিঁধে তিনি লিখেছেন, বিধাননগর পুলিশের দেহ শনাক্ত করতে কী ভাবে দু সপ্তাহ লেগে গেল? তাঁরা কী প্রোটোকল মেনে কাজ করছেন না? আশপাশের থানাগুলিকে কি জানানো হয়নি? এটা কার দোষ – বিধাননগর পুলিশের? CID-র? নাকি বসিরহাট পুলিশ জেলার? আরও একটি টুইটে পুলিশকর্মীদের সঠিক কাজে ব্যবহার করার জন্য DGP যাতে দেখেন, সে ব্যাপারে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরকে নির্দেশ দেওয়ারও দাবি তুলেছেন শুভেন্দু।
অন্যদিকে, অতনু দেব ও অভিষেক নস্করের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা রাখতে পারছে না তাদের পরিবার। CID অথবা CBI ঘটনার তদন্ত করুক বলে দাবি জানিয়েছে অতনুর পরিবার থেকে প্রতিবেশী। এদিন ঘটনার অতনুর পরিবার ও প্রতিবেশী উত্তেজিত হয়ে মূল অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুরও করেন।
যদিও এই ঘটনার তদন্তের রিপোর্ট তলব করেছেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। এদিন সন্ধ্যায় অতনুর বাড়িতে যান শিশু সুরক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিসুদেষ্ণা রায় শিশু সুরক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি সুদেষ্ণা রায়। তিনি অতনুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং গোটা ঘটনার খোঁজ-খবর নেন। পরে অতনুর বাড়িতে আসেন রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক অদিতি মুন্সিও। অতনু ও অভিষেকের খুনের তদন্তের আশ্বাস দিয়ে তাদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।




