খবর লাইভ : কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির পাল্টা নিজস্ব শিক্ষানীতি তৈরি করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, সেই নীতি নির্ধারণ করতে দশ সদস্যের একটি কমিটিও তৈরি করা হয়েছে। ওই কমিটির সদস্যদের মধ্যে প্রথম নামটি গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের। এই প্রথম গায়ত্রী তৃণমূল সরকারের কোনও কমিটির সদস্য হলেন। রাজ্যের নিজস্ব শিক্ষানীতি তৈরির জন্য এই কমিটি গড়ার মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মোদী-বিরোধী অবস্থান আরও জোরালো করার বার্তা দিল।
আরও পড়ুন- পাকিস্তানে পার্লামেন্ট পুনর্বহালের রায়
রাজ্যের জন্য আলাদা শিক্ষানীতির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে প্রশ্ন করেছিল আনন্দবাজার অনলাইন। ব্রাত্য বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার যে শিক্ষানীতি তৈরি করেছে সেটা মিসিগান এবং অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুবহু অনুকরণ। আমরা সেই টোকা শিক্ষানীতি মানছি না। তাই নিজস্ব শিক্ষানীতি তৈরির এই উদ্যোগ।’’ কত দিনের মধ্যে এই কমিটি নতুন শিক্ষানীতি রূপায়ণ করবে? জবাবে ব্রাত্য বলেন, ‘‘আমরা কোনও সময়সীমা বেঁধে দিইনি। তবে যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার কথা বলা হয়েছে।’’
১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রথম সদস্য হিসেবে রয়েছেন আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক। রয়েছেন হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুগত বসু, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস, মৌলানা আবুল কালাম প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈকত মৈত্র, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ দুর্গাপুরের প্রফেসর অনুপম বসু, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, অভীক মজুমদার, ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য। ডক্টর চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়।
কমিটি কোন কোন বিষয়ে নজর দেবে তারও একটি রূপরেখা বলে দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির পর কেরল ও মহারাষ্ট্র সরকার কি নীতি গ্রহণ করেছে সেটা দেখতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষানীতির গ্রহণ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কী কী গাইড লাইন দিয়েছে সেগুলো দেখতে হবে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, দু’মাসের মধ্যে এই কমিটিকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের স্পেশাল কমিশনার এই কমিটিকে সবরকম সাহায্য করবে।




