খবর লাইভ : বগটুই-কাণ্ডের জেরে তৃণমূলের ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়েছে। এমনটাই মনে করছেন খোদ তৃণমূলের রাজ্যস্তরের নেতাদের একটা বড় অংশ। যার জেরে বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের মতো হেভিওয়েট নেতাও মহাবিপদে রয়েছেন। কারণ বগটুইয়ের ঘটনার তদন্তে সিবিআই প্রথমেই বেআইনি বালি, পাথর ও কয়লা খাদানে পুলিশ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় থাকার কারণ অনুসন্ধান যেমন করছে তেমনই কোন অফিসারের সঙ্গে বেআইনি কাজে জড়িতদের সম্পর্ক রয়েছে সেগুলো খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। পাশাপাশি বেআইনি খাদানে তৃণমূল নেতাদের কী ভূমিকা রয়েছে সেটাও খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। কয়লা কাণ্ডে ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া থানার আইসি-কে গ্রেফতার করেছেন গোয়েন্দারা। বালি ও পাথর পাচারেও বেশ কয়েকজন সরকারি অফিসার গ্রেফতার হয়েছেন। যার ফলে বেশ চাপে রয়েছে রাজ্যের শাসকদল। বিরোধীরাও এই বিষয়গুলি নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি। এমতাবস্থায় রাজ্য পুলিশের অ্যান্টি কোরাপশন ব্রাঞ্চের ধাঁচে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ একটি দল। রাজ্য সরকার যাতে বিপাকে না পড়ে এবং কোন কোন থানায় বেআইনি কাজ বন্ধ করতে পুলিশ বা প্রশাসন অনীহা প্রকাশ করছে সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবে ওই দল। শুধুমাত্র বেআইনি কাজ রুখতেই এই বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে। বেআইনি বালি খাদান, মাটি খাদান, কয়লা খাদান, পাথর খাদান রুখতেই এই বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে। তবে এই দলের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দফতরের অফিসারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লোকজনও থাকবেন। যে থানার অধীনে বেআইনি কাজ হবে সেই থানাকে না জানিয়েই সেখানে হানা দেবেন ওই বিশেষ দলের সদস্যরা। বেআইনি কাজ বন্ধ করতে যদি পুলিশ ও প্রশাসন নীরব থাকে তবে তাদের ভূমিকাও সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
দুর্নীতি রুখতেই এই পদক্ষেপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের। রাজ্য প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘কিছু সরকারি অফিসারের জন্য সরকারের বদনাম হচ্ছে। একের পর এক ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে চলে যাচ্ছে। তাই সরকারের এই উদ্যোগ। যাঁরা বেআইনি কাজকে সমর্থন করবেন তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।’
অনেকেই মনে করছেন, এতে তৃণমূলেরও ভালো হবে আর সরকারের গায়েও কালি লাগবে না।




