Special News Special Reports

বগটুই-কাণ্ডে সিবিআইয়ের একাধিক প্রশ্নে অস্বস্তিতে রাজ্য পুলিশের কর্তারা

0
(0)

খবর লাইভ : বগটুই যখন জ্বলছিল, বীরভূম জেলা পুলিশের কর্তারা সেখানে না-গিয়ে অদূরে পুলিশেরই এক অতিথিশালায় বৈঠক করছিলেন বলে তদন্তে জেনেছে সিবিআই। তাদের দাবি, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এর সমর্থন তো মিলেছেই, তদুপরি রামপুরহাটের এসডিপিওখ এবং আইসি-কে জিজ্ঞাসাবাদের পরে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। বগটুইয়ে ২১ মার্চের সেই আগ্নেয় রাতে পুলিশের এমন ‘নিষ্ক্রিয়তা’র পিছনে প্রভাবশালী-যোগের তথ্য মিলছে বলে জানাচ্ছেন সিবিআইয়ের অফিসারেরা।

তদন্তকারীদের প্রশ্ন, বগটুইয়ে যখন পরের পর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন সেখানে না পাঠিয়ে এসডিপিও সায়ন আহমেদকে ভাদু শেখের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ধরতে চামড়াগুদাম এলাকায় তল্লাশিতে পাঠানো হয়েছিল কেন? প্রাথমিক তদন্তের পরে সিবিআইয়ের দাবি, ভাদু খুন হওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পরে জেলা সদর সিউড়ি থেকে জেলা পুলিশের এক কর্তা রামপুরহাট জাতীয় সড়কে এসে পৌঁছেছিলেন। যেখান থেকে বগটুই গ্রাম মিনিট তিনেকের হাঁটাপথ। ২১ মার্চ রাত ১১টা নাগাদ বগটুই গ্রামে তখন বেশ কয়েকটি বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।
সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা জানান, এসডিপিও-র সঙ্গে সব সময় স্পেশাল ফোর্স থাকে, যে-বিশেষ বাহিনীতে থাকেন অন্তত‌ দশ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশকর্মী। গ্যাস-গান, ঢাল, লাঠি, আধুনিক রাইফেল এবং পিস্তল থাকে সেই বাহিনীর সঙ্গে। সিবিআইয়ের প্রশ্ন, দুষ্কৃতীরা যে বগটুইয়ে চড়াও হয়ে পেট্রল-বোমা ছুড়ছে, আগুন লাগাচ্ছে, সেটা জানার পরেও মিনিট দশেকের দূরত্বে থাকা এসডিপিও-কে ওই গ্রামে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি কেন? এমনকি রামপুরহাট থানা থেকেও পুলিশ সেই সময় বগটুইয়ে যায়নি। পরে রামপুরহাটের আইসি-র কাছ থেকে খবর পেয়ে এসডিপিও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। প্রায় একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলবাহিনী।

আরও পড়ুন- Morning news : সকালের একঝলক

সিবিআই সূত্রের দাবি, আগুন নিভে যাওয়ার পরে জেলার পুলিশকর্তাদের বৈঠকে এসডিপিও-কে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। রাত ২টো নাগাদ পুলিশকর্তাদের কাছে খবর পৌঁছয়, নাজিমা বিবি নামে এক মহিলাকে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় রামপুরহাট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তা শোনার পরে জেলা পুলিশকর্তারা রামপুরহাটের আইসি-কে ওই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়ে ভোর ৩টে নাগাদ অতিথিশালার বৈঠক ছেড়ে সিউড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে যান। সব মিলিয়ে সিবিআইয়ের তদন্তকারীদের সামনে একটার পর একটা প্রশ্ন উঠে আসছে, যা রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলবে রাজ্য পুলিশের কর্তাদের।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *